• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
Headline
আম্বিয়া খাতুন মেমোরিয়াল স্কুল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইউনিক এডুকেয়ার হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মোনাজাতের মাধ‌্যমে শেষ হলো দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ দিন যাবত একই কর্মস্থলে গাজীপুর সদরের শিক্ষা অফিসার শামীম আহম্মেদ গাজীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের আহবায়ক কমিটি গঠন গাজীপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের হাজী মুছা সভাপতি, ইসমাঈল মাস্টার সম্পাদক নির্বাচিত এই বিজয় জনগণের বিজয়: শেখ হাসিনা অবাধ-স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে, জানালেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিলুপ্তির পথে তাঁতশিল্প, হুমকির মুখে ব্যবসায়ীরা এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে: কাদের

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ঋণ নয়, বিশ্বব্যাংক-এডিবির অনুদান চায় টিআইবি

রিপোর্টারের নাম / ৭ টাইম:
আপডেট: সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মতো বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ নয়, সহায়তা অনুদান দিতে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই নিপীড়নমূলক মানবিক সংকট মোকাবিলায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ন্যায্য ও যথাযথভাবে এগিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলছে, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ, যার ৫৩৫ মিলিয়ন ডলারই ঋণ এবং ৪৬৫ মিলিয়ন অনুদান।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশের বাধ্য হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের মতো এমন একটি মানবিক সংকট মোকাবিলার সব শুধু বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া পুরোপুরি অন্যায্য এবং তা মোটেই কার্যকর ও টেকসই সমাধান নয়। সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক সংহতি।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া ও বছরের পর বছর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকুই করেছে বাংলাদেশ। এই বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা সম্মিলিতভাবেই বহন করার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্যাতনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বলে এই অর্থনৈতিক বোঝার পুরোটাই অনন্তকাল ধরে বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিশেষত, যখন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সেই মুহূর্তে এই ঋণ চাওয়ার সিদ্ধান্ত দ্বিগুণ উদ্বেগের। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সংশ্লিষ্ট সব খরচের সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

ঋণ নয়, অনুদান হিসেবে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির প্রতি আমরা আহ্বান জানাই। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি প্রমাণ করার একটি সুযোগও পাচ্ছে যে, তাদের লক্ষ্য শুধু নির্বিচার ঋণ ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি আরও বলেন, বাস্তুহীন রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অনুদান হ্রাসের প্রবণতায় টিআইবি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাপুরুষের মতো তাদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে এবং এই বোঝা বহনের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অনুদান কমে যাওয়ার কারণে মাথাপিছু খাদ্য সহযোগিতায় বরাদ্দ প্রতি মাসে ১২ ডলার থেকে ৮ ডলারে নেমে এসেছে জানিয়ে ড. জামান বলেন, বৈশ্বিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মিয়ানমারের বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানো, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের টেকসই সমাধান এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানো।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সমন্বয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ এবং তার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় তা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের নৈতিক দায়িত্ব। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নসহ এই সংকটের মূল কারণসমূহ মোকাবিলায় জাতিসংঘকেও কাজ করতে হবে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যথেষ্ট ভোগান্তির শিকার হয়েছে এবং মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনের অধিকার তাদের আছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়ন-গণহত্যা থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বইতে গিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি চাপে রয়েছে। এখন সেই চাপ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশকে ঋণ নিতে বাধ্য করার মতো নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য কাজ আর কী হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
https://slotbet.online/