• রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
Headline
অনিয়মকে নিয়ম মেনেই চলছে গুইমারা বাজার অবৈধ গ্যাস পুনরায় সংযোগ দিলে চাকরি থাকবে না : পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান গাছায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা -২০২৪ অনুষ্ঠিত। গাজীপুরে বনে জবরদখল উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন গাজীপুরে বেনজির কর্তৃক বনভূমি জবরদখলের অভিযোগে মানববন্ধন গাজীপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত অক্সফোর্ড প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত এম এ বারী ক্যাডেট একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত কলমেশ্বর প্রতিভা মডেল স্কুল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত কেয়ার এডুকেশনস গাজীপুর ও এম এ বারি শিক্ষা পরিবারের যৌথ আয়োজনে গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হলো গণিত উৎসব ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৪

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের অধিনে কৃষকরা আখ চাষে ফিরছেন

রিপোর্টারের নাম / ১৫৭ টাইম:
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস্ লিমিটেডে ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। অপরদিকে চলতি মৌসুমে আখের মুল্য বৃদ্ধি করায় কৃষকরা আবার আখ চাষে ফিরেছেন। চলতি বছর কৃষকরা আখের সুল্য পাবেন প্রতি মন ২২০ টাকা এবং আগামী বছন পাবেন ২৪০ টা প্রতি মন আখের মুল্য। কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের চলতি মাড়াই মৌসুমে এবার ৫০ হাজার মোট্রক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছেন। চিনি আহরণের নির্ধারন করা হয়েছে গড় ৬ শতাংশ পরিমাণ উৎপাদিত হবে। এ বছর চিনিকলে মণ আখের মূল্য ধার্য হয়েছে ২২০ টাকা মন। মিলের রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে,বিগত ২০২২-২৩ মাড়াই মৌসুমে আখের অভাবে মাত্র ২৮ চিনিকলটি চালুছিল। কৃষকেরা মাঠে আখের আবাদ না করায় মিলটি সব থেকে কম সময় ছিল আখ মাড়াই মৌসুম। ২৮ দিনে ৩৫ হাজার ৩৬০ মোট্রক টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছিল। গত বছর আখের মণ ছিল ১৮০ টাকা। বিগত সময়ে প্রতি মৌসুমে চিনিকলের ৮ টি সাবজোনের অধিনে কৃষকেরা ৮ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আখ রোপন করতো। কিন্তু নানা প্রতিকুল পরিবেশ এবং অল্প সময়ে বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ হওয়ায় দিন দিন কমে যাচ্ছিল আখের চাষ। চলতি মৌসুমে আখের মুল্য আগামী বছর আখের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কৃষকেরা আবার আখ চাষে ঝুকে পড়ছেন। আখ চাষ একটি লাভজনক ফসল। কালীগঞ্জ উপজেলার খামার মন্দিয়া গ্রামের আখচাষি দলিল উদ্দীন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর আখের মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। আমার দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ রয়েছে, মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় আরও দুই বিঘা জমিতে নতুন করে চাষ করব। দাম বাড়ার কারণে এলাকার অনেক কৃষকরা নতুন করে এবার চাষ করছেন।’ মোবারকগঞ্জ সুগার মিলসের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার মন্ডল জানান,চলতি মৌসুমে ৫ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক মাসে ২ হাজার ৫০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। সামনে এক মাসে আরও ১ হাজার একর জমিতে কৃষকেরা আখ চাষ করবেন বলে আশা করছেন। এ ছাড়া মাঠে দন্ডায়মান ৩ হাজার একরের মধ্যে প্রায় ২ হাজার একর জমিতে মুড়ি আখ থাকবে। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ আখ মাড়াই মৌসুমে আখ রোপণ ও চিনি উৎপাদন অনেকটা বাড়বে। আখের মূল্য বেশি পাওয়ায় এ বছর কৃষকেরা আবাদ করার দিকে ঝুঁকছেন।আখের বীজ জমিতে রোপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। গত ২ সেপ্টেম্বর-২৩ বেলা ১১ কালীগঞ্জের দাদপুর গ্রামের আখচাষী মুনতাজ আলীর জমিতে উন্নত জাতের আখের বীজ রোপণের মধ্য দিয়ে এ বছরের আখ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু করা হয়। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারী ইউানয়নের সভাপতি গোলাম রসুল জানান, বিগত কয়েক বছর চিনিকলছি অনেকটা ভাল পরিবেশে চলছে ও শ্রমিক কর্মচারিরা তাদের বেতন ভাতা পূর্বের ন্যায় বকেয়া থাকে না। এর আগে ৩/৪ মাস বেতন না পয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতো। আবার বিগত কয়েক বছর কৃষকরা তাদের আখ বিক্রির টাকা নিয়মিত পেয়ে যাচ্ছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৭.৯৩ একর জমির ওপর মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করে নেদারল্যান্ডস সরকার। তন্মধ্যে ২০.৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮.২২ একর জমিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসিক কলোনি, ২৩.৯৮ একরে পুকুর এবং ১০৭ একর জমিতে পরীক্ষামূলক আখের খামার করা হয়। এ ছাড়া ১৮.১২ একর জমিজুড়ে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালে চিনিকলটি পরীক্ষামূলক ভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই করেছিল। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-৬৮ সালে আখ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করে চিনিকলটি। ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা ছাড়াও যশোরের দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত মিলের ৮টি সাবজোনের অধিনে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ একর। এ ছাড়া বর্তমানে চিনিকলের অধিনে আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৪৮টি। সরকার দেশীয় কৃষির সব বিভাগে উন্নয়ন করতে ভর্তুকিসহ নানা পদক্ষেপ নিলেও চিনিকলগুলো যেন অবহেলিত রয়ে গেছে। ফলে বহুমুখী সংকট আর সমস্যা নিয়ে চলছে ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬৭ কোটি ৫৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে আয় হয় ৭১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এই সময়ে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন খরচ পড়ে ঋণের সুদসহ ২০৬ টাকা ৪৮ পয়সা। তবে সেই চিনি বিক্রি করেছিল প্রতি কেজি ৭৫ টাকায়। মিলের প্রধান কর্মকর্তা বলছেন, লোকসান তো কৃষির সব সেক্টরে হতে পারে বা হয়। লোকসান কমিয়ে লাভের মুখ দেখতে হলে কারখানার যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন, ঋণ ও সুদ মওকুফ, আখের জাত উন্নয়ন ও বিকল্প শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে।আখের দামে বৈষম্য, বিক্রয় শর্তের জটিলতা ও চিনির লালচে রঙের কারণে ক্রেতারা ও ব্যবসায়ীরা এইচিনিকলের চিনিক্রয় করতে বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। অন্যদিকে আখের জাত উন্নয়ন না হওয়ায় চিনি আহরণের হার কম হয়ে থাকে। ফলে বছরের পর বছর ঐতিহ্যবাহী এ মিলটি মোটা অংকের লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে।চিনি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকদের মজুরি খরচ, আখ ক্রয়, পরিবহন খরচ, কারখানা মেরামত এবং বয়লারের জ¦ালানিসহ অর্ধশতাধিক খাতের খরচ মিটিয়ে প্রতি বছরই বাড়ছে চিনি উৎপাদন খরচ। সে তুলনায় বাড়ছে না চিনির দাম। এদিকে বিৃটিশ আমলের যন্ত্রাংশে মেরামতসহ ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রতি বছরই বাড়ছে জ¦ালানিসহ অন্যান্য খরচ। চিনিকলের আয় ও খরচের হিসাব থেকে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে আয় হয় ৫৯ কোটি ২৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা, এই সময়ে ঋণের সুদসহ প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৭৫ টাকা ৫৮ পয়সা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০৫ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে আয় হয় ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, এই সময়ে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন খরচ পড়ে ঋণের সুদসহ ১৯২ টাকা ৪৫ পয়সা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩০ কোটি ৪২ লাখ ৫ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে আয় হয় ৩৮ কোটি ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ে ২১১ টাকা ৯ পয়সা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২৭ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে আয় হয় ৪০ কোটি ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৯৩ টাকা ৫৪ পয়সা। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের শ্রমিকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠাকালীন যন্ত্রাংশ দিয়ে এখনো মিলের উৎপাদন কাজ চলমান। একটি যন্ত্র ২০ বছরের মতো ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এই সময়ের বেশি হলে প্রতি বছরই মেরামত খরচ বাড়ে। ফলে এই যন্ত্র আধুনিকীকরণ না হলে লভ্যাংশ আশার সম্ভাবনা একেবারেই কম। মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের আইন ও দরকষাকষি সম্পাদক গোলাম রসুল বলেন, কৃষিতে বিপ্লব ঘটলেও আখের উন্নত জাত না পাওয়ায় উৎপাদন বাড়েনি। উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের নিয়মিত সার, কীটনাশক সরবরাহ করা হচ্ছে। সর্বশেষ মাড়াই মৌসুমে কৃষকদের সব পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। আখের জাত উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে চিনিকলের যন্ত্রাংশ নিয়ে বা আধুনিকীকরণের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।২০২২-২৩ রোপন মৌসুমে কৃষকরা আঁখ চাষ করেছে ৩ হাজার ১০০ একর। এর আগের বছর ২০২১-২২ রোপন মৌসুমে আঁখ চাষ করেছিল ৩ হাজার ৭১৫ একর।চলতি রোপন মৌসুমে প্রায় ৬০০ একর আঁখচাষ কম হয়েছে। বিগত মাড়াই মৌসুমে আখ মাড়াই করে মিলের চিনি আহরণের হার ছিল ৪.৯০ শতাংশ। যা অন্যান্য বছরের থেকে অনেক কম। তবে, মিলের রেকর্ড বলছে এর আগে প্রতি মৌসুমে মিল এলাকার কৃষকরা ৮ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আঁখ চাষ করতো। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের চিনি উৎপাদন ও বিপনন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিলগেটে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ১০৫ টাকা। অন্যান্য মৌসুমে বাজারে এ মিলে উৎপাদিত চিনি পাওয়া গেলে এবছরের চিত্র ভিন্ন। মিল থেকে ডিলারদের চিনি না দেওয়ায় খোলা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে চিনি। ২০২১-২২ মাড়াই মৌসুমে মিলটির লোকসান হয়েছিল ৬৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর আগের বছর ২০২০-২০২১ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি চিনি উৎপাদন করে ৭ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ চিনি উৎপাদন করতে মিলের লোকসান দিতে হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
https://slotbet.online/