গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে। এত দিন মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হলেও এখন তা চলে যাচ্ছে আশপাশের খাল ও নদীতে। এতে দূষিত হচ্ছে তুরাগ নদীর পানি, বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। পাশাপাশি তীব্র দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দা ও পথচারীরা।
৩২৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এ ছাড়া এখানে দুই হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে। বাসিন্দা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন প্রচুর বর্জ্য উৎপন্ন হয়। তবে পর্যাপ্ত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় উন্মুক্ত স্থান, রাস্তার পাশ কিংবা জলাশয়ে ফেলছে ময়লা। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানির সঙ্গে পচা বর্জ্য মিশে দুর্গন্ধ আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, বর্জ্য অপসারণের জন্য তাদের ৪৮৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৫৭টি ওয়ার্ডের ময়লা বহনে ৫০টি গাড়ি রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এত দিন নগরীর অধিকাংশ বর্জ্য ফেলা হতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা এলাকায়। সেখানে জমানো বর্জ্যের উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুটে গিয়ে ঠেকেছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বাইমাইল এলাকায় নদীর পাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর পাড়ে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে স্তূপটি দিনদিন বড় হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে বর্জ্যের একটি বড় অংশ নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বাইমাইল এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বলেন, ‘ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং নদীদূষণ বাড়ছে। যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তার পাশেই কয়েকটি পরিবার বসবাস করে, দুর্গন্ধের কারণে তারা ঘরে টিকতে পারছে না।’
পথচারী মাহমুদ হোসেন বলেন, নদীর পাড়ে ময়লার স্তূপ থাকায় এই পথ দিয়ে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, নদীকে কোনোভাবেই দূষিত বা ধ্বংস করা যাবে না। নদী দূষণ একটি আইনত অপরাধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় নদীর জীববৈচিত্র্যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। নদী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
https://slotbet.online/