শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে তদন্ত শেষ করতে আরও সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল নতুন দিন ধার্য করেন।
এদিন মামলার আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। অন্য আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকেও এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
গত ২৩ জুলাই শুনানি শেষে মোজাফফর হোসেনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখান ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত সংস্থাকে তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।
এর আগে ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশের পর তদন্ত সংস্থা মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরদিনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে তাকে হাজিরের নির্দেশ দেন।
২৩ জুলাই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পাশাপাশি দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ-সংক্রান্ত। এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও আসামি।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় দুজনের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে।
প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচারিক কার্যক্রমও রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে মোজাফফর হোসেনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তিনি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ২৩ মার্চ দিনগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
তখন ডিবি জানিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন।
https://slotbet.online/