সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সাদেকীন হাবিব বাপ্পীর আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রঞ্জনের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইসমাঈল হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি জানান।
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন সচিবালয়ে অফিস শুরু হলে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনটি কাজ করছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সচিবালয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোনের সংযোগ সচল করা হয়।
ঘটনার পর বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, সচিবালয়ের একটি ভবনের ছাদ থেকে ওই কেবল কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জিডির পর তদন্তে অগ্রগতি হলে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলায় রঞ্জন চন্দ্রের পাশাপাশি রেজাকুল ইসলাম নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। রঞ্জনের কাছ থেকে চুরি করা কেবল কেনার অভিযোগ রয়েছে রেজাকুলের বিরুদ্ধে।
গ্রেফতারের পর ৫ জুন দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।এরপর থেকে কারাগারে থাকা রঞ্জন চন্দ্র বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
https://slotbet.online/