সোনারগাঁয়ে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩ জন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যবাধকতা আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত এই অভিযানে ব্যবসায়ীদের আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়। তবে এই জরিমানা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, মূল উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (কোম্পানি)-কে ছাড় দিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর আইন প্রয়োগ করা এক ধরনের একপেশে ও অসৌজন্যমূলক পদক্ষেপ।
অভিযানের পর বাজারে উপস্থিত একাধিক ক্রেতা ও ব্যবসায়ী জানান, পলিথিন বা প্লাস্টিক মোড়কজাত পণ্যগুলো বড় বড় কোম্পানি বা মিল থেকে সরাসরি প্যাকেটজাত হয়ে বাজারে আসে। সাধারণ খুচরা বিক্রেতারা কেবল সেসব পণ্য কিনে এনে বিক্রি করেন।
স্থানীয়দের দাবি কোম্পানি যদি প্লাস্টিকের বদলে পাটের বস্তা বা মোড়কে পণ্য সরবরাহ না করে, তবে খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষে তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ডিলার, কারখানা বা উৎপাদনকারী পর্যায়ে কঠোর তদারকি না করে কেবল খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করাটা যুক্তিযুক্ত নয়। সরাসরি জরিমানা না করে প্রথমে সতর্ক করা এবং বাজারে পাটের মোড়কজাত পণ্যের সরবরাহ সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, কোম্পানিগুলো থেকে পাটের মোড়কে পণ্য না পেলে তাদের কিছু করার থাকে না। তাই আগে বড় কোম্পানিগুলোকে বাধ্য না করে ছোট ব্যবসায়ীদের এভাবে জরিমানা করায় তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন। অভিযানে সহায়তা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আতাউর রহমান ও সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন সরকার বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
https://slotbet.online/