গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলি এলাকায় দলের নাম ব্যবহার করে একটি রেস্টুরেন্টের কাউন্টার রুম দখল করে বিএনপির পার্টি অফিস স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ভাই হেলাল ও জালালের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী জাকির মোড়লের অভিযোগ, পাওনা টাকা পরিশোধ না করে তার তৈরি করা কাউন্টার রুমে দলীয় সাইনবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার টানিয়ে বিএনপির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জাকির মোড়ল জানান, বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলি এলাকায় হেলাল ও জালালের কাছ থেকে চুক্তিনামা অনুযায়ী মাসিক ২ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৪ মাসের জন্য জায়গা নেন তিনি।
সেখানে ‘হাঁস বাড়ি’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন। প্রথম চার মাস নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের পর ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন মাস আগে জমির মালিকপক্ষকে জানিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নেন। তার দাবি, প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাউন্টার রুমটি মালিকপক্ষ রেখে দিতে চাইলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এর মূল্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত দুই ভাই সেখানে বিএনপির পার্টি অফিস করবেন বলে জানান এবং স্থানীয় হোসেন মিয়ার মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা বায়না দেন। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার সময় দেওয়ার পরও বাকি টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাকির মোড়ল। পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্তরা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন বলেও তার দাবি। জাকির মোড়লের অভিযোগ, পরে তার কোনো পাওনা পরিশোধ না করেই ঘরটিতে বিএনপির সাইনবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও চেয়ার-টেবিল স্থাপন করে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করা হয়। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে হেলাল ও জালাল বলেন, “জোরপূর্বক ঘর নিয়ে বিএনপির অফিস করা হয়নি। জাকির মোড়ল নিজেই আমাদের কাছে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিয়েছেন। এরপর আমরা ঘরে প্রবেশ করেছি। বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তার সঙ্গে মিটিয়ে নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে বরমী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ সরকার বলেন, “জালাল ও হেলাল বিএনপির কেউ নন। এমনকি তারা দলের প্রাথমিক সদস্যও নন। তথাকথিত পার্টি অফিস স্থাপনের বিষয়টি বরমী ইউনিয়ন বা ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কোনো নেতৃবৃন্দ জানেন না।” এ ঘটনায় দলের নাম ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ বা দখলের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
https://slotbet.online/