কারাগারেই জন্ম, ৭ বছর পর মায়ের হাত ধরে মুক্ত আকাশে মোবাশ্বেরা
স্টাফ রিপোর্টার
/ ১৭
টাইম:
আপডেট:
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেয়ার
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে এলো সাত বছরের শিশু মোবাশ্বেরা। সাত বছরের জীবনে যার কাছে কারাগারের চার দেয়ালই ছিল পরিচিত পৃথিবী, সেই শিশুটি এদিন প্রথমবারের মতো মুক্ত আকাশের নিচে পা রাখল। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে মা কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো মোবাশ্বেরারও দীর্ঘ কারাজীবন। ২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন কামরুন্নাহার মনি। পরে কারাগারেই জন্ম নেয় তার কন্যাসন্তান। মেয়ের নাম রাখা হয় মোবাশ্বেরা। জন্মের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে কারাগারের ভেতরেই কেটে যায় তার সাতটি বছর।
কারাগারের সীমিত পরিবেশেই মেয়ে পড়াশোনা শিখেছে, মায়ের কাছ থেকে কোরআন পড়তে শিখেছে। এমনকি মেয়ের জন্য জামা কেটে স্কুলব্যাগও তৈরি করে দিয়েছিলেন মনি। সেই ব্যাগ কাঁধে নিয়েই কারাগারের ভেতরের স্কুলে যেত ছোট্ট মোবাশ্বেরা।
মুক্তির পর মেয়ের কারাজীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কামরুন্নাহার মনি। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের জন্ম কারাগারেই, সাতটি বছর কারাগারেই ছিল। আমি তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির বই পড়াচ্ছি, কোরআনের একটি পারা মুখস্থ করিয়েছি, কোরআন পড়তে শিখিয়েছি। আমার সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করেছি।’
মোবাশ্বেরার কাছে স্কুলব্যাগও ছিল অচেনা জিনিস। তাই কারাগারের ভেতর থেকেই তাকে শেখাতে হয়েছে—স্কুলে যেতে হয়, বই নিতে হয়, ব্যাগ কাঁধে নিতে হয়। কিন্তু বাইরের বিশাল পৃথিবী, মুক্ত বাতাস আর স্বাভাবিক শৈশব—এসব তার কাছে ছিল একেবারেই অজানা। মনি বলেন, ‘মা যেভাবে যত্ন করে রাখে, কখনো কেউ রাখে না। মা হচ্ছে একটা চাদর।’ এদিন কারাগারের বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা ফুলের মালা ও ফুলের তোড়া দিয়ে মুক্তিপ্রাপ্তদের বরণ করে নেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে অনেকের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। তবে সবার নজর কেড়ে নেয় মায়ের হাত ধরে কারাগারের ফটক পেরিয়ে আসা ছোট্ট মোবাশ্বেরা।
একই মামলায় খালাস পাওয়া আরও সাতজন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। তারা হলেন—মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আব্দুর রহিম শরীফ। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জাকির হোসেন জানান, মুক্তির কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে পর্যায়ক্রমে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সাত বছর কারাগারের ভেতর কাটানোর পর মোবাশ্বেরার সামনে এখন নতুন এক পৃথিবী। যে পৃথিবী এতদিন শুধু মায়ের গল্পে চিনেছে, এবার সেই পৃথিবীকেই নিজের চোখে দেখবে ছোট্ট শিশুটি।