ঢাকার শ্যামপুরে ১৬ বছর বয়সী নববধূ আফরা খানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তার স্বামী রাহাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার উপ-পরিদর্শক ইমাম হোসেন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছবুর বিষয়টি জানান।এদিকে রাহাতকে আদালতে হাজির করা হবে, এ খবর পেয়ে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন আফরার স্বজনরা। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে পারিবারিকভাবে রাহাত ও আফরার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাহাত আফরাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন বলে অভিযোগ করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
গত ২০ আগস্ট আফরার মৃত্যুর ঘটনায় শ্যামপুর থানায় স্বামী রাহাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা লাকী আক্তার। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন।মামলার পরদিন ২১ আগস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকার নিজ বাসা থেকে রাহাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমাম হোসেন। শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।
এদিন রিমান্ড শুনানিতে রাহাতকে আদালতে হাজির করা হলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আকতার হোসেন সোহেল রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, আফরার বয়স ১৮ বছর না হলেও তাকে ফুসলিয়ে এবং তার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে বিয়ে করেন রাহাত। বিয়ের পর আফরার পরিবারের কাছে টাকা দাবি ও তাকে নির্যাতন করা হয়।বাদীপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, আফরাকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। কী কারণে আফরার মৃত্যু হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা বের করতে রাহাতকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আদালতে জানান তিনি।অন্যদিকে রাহাতের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, আফরা ও রাহাত পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এজাহারেও নেই। তারাও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে বিচার চান বলে আদালতকে জানান তিনি।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আফরার মা লাকী আক্তার। মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় বিয়েতে পরিবারের সম্মতি ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, আফরার সঙ্গে রাহাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাহাত তার মাকে নিয়ে অন্তত ১০ বার তাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা বিয়ে দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার ফোন করে লাকী আক্তারকে জানান, আফরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পরে লিটন ব্যাপারী ও সাইফ তাকে সূত্রাপুরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।খবর পেয়ে আফরার মা হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফরাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সেদিনেই ২০ আগস্ট শ্যামপুর থানায় মামলা করেন লাকী আক্তার। তার অভিযোগ, আসামিরা তার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন।
মামলার অন্য তিন আসামি সোনিয়া আক্তার, লিটন ব্যাপারী ও সাইফ হোসেন গত ২ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রাহাত হোসেনের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সূত্র : জাগো নিউজ
https://slotbet.online/