কোনো পণ্যই অর্ডার করেননি। অথচ একের পর এক ডেলিভারি কর্মী পার্সেল নিয়ে হাজির হচ্ছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের বাসায়। বিভিন্ন অনলাইন পেজ থেকেও তার ফোনে আসছে একের পর এক কল। শুধু তা-ই নয়, কেউ কেউ অর্ডার করা পণ্য নিয়ে সরাসরি তার বাসা পর্যন্ত চলে আসছেন। হঠাৎ এমন ঘটনায় বেশ বিপাকে পড়েছেন এই অভিনেতা।
বিষয়টি নিয়ে আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জয়। তার দাবি, কেউ তার ফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা পণ্য ডেলিভারির বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকেই তার নামে একের পর এক পার্সেল অর্ডার করা হচ্ছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে জয় লেখেন, ‘কি একটা আশ্চর্য ব্যাপার! অবিরাম বিভিন্ন গ্রুপে আমার নামে পার্সেলের অর্ডার করে যাচ্ছে। শত শত ফোন আসতেছে। কেউ কেউ মাল নিয়ে বাসা পর্যন্ত চলে আসতেছে। কোনো কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন করে বলছে, আপনি না করলে এটা কে করছে?’
এর আগে একই ঘটনা নিয়ে আরেকটি পোস্টে জয় লিখেছিলেন, ‘মানুষের ক্ষতি করার জন্য কেউ কেউ অকারণে ওত পেতে থাকে। আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, আমার ফোন নাম্বার এবং বাসার এড্রেস প্রোডাক্ট ডেলিভারির অনলাইন গ্রুপে কেউ একজন সক্রিয়ভাবে দিয়ে দিয়েছেন বা এখনো দিয়ে যাচ্ছেন।’
জয় জানান, শুরুতে বিভিন্ন ডেলিভারি পেজ থেকে তার ফোনে একের পর এক কল আসতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি নম্বরগুলো ব্লক করে দেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। পরে অর্ডার না করা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ডেলিভারি কর্মীরা সরাসরি তার বাসায় আসতে শুরু করেন।
এ প্রসঙ্গে জয় লেখেন, ‘অনবরত আমার ফোনে বিভিন্ন পার্সেল পেজ থেকে ফোন আসছে। আমি ফোন নাম্বার ব্লক করে রেখেছি। এরপর দেখলাম পার্সেল নিয়ে সরাসরি আমার বাসায় চলে আসছে ডেলিভারি ম্যান। একের পর এক। কোনো অর্ডার আমি করিনি।’
ঘটনাটিকে নিছক হয়রানি হিসেবে দেখছেন না জয়। তার মতে, অন্য কারও মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে এভাবে পণ্য অর্ডার করার ঘটনা সাইবার অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে কীভাবে শনাক্ত করা যায়, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন তিনি।
জয় বলেন, ‘এটা এক ধরনের সাইবার ক্রাইম। যে আমার নাম্বার দিয়ে এই কাজটা করেছে কিংবা এখনো করছে তাকে ধরার জন্য আমি কী করতে পারি?’
নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। ডেলিভারির কথা বলে কেউ বাসায় এসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তার। তবে অসুস্থ থাকার কারণে এখনো থানায় যেতে পারেননি এবং মামলাও করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন জয়।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে জয় লেখেন, ‘কি আশ্চর্যভাবে একজন মানুষের ক্ষতি করার জন্য কাজ করছে কোন না কোন মানুষ। আমি অসুস্থ থাকার কারণে থানায়ও যেতে পারি নাই। মামলাও করতে পারি নাই। কিন্তু বিষয়টা অতি ভয়ংকর দিকে যাচ্ছে।’
এরপর তিনি আরও লেখেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল ই যদি কাউকে ক্ষতি করতে চান সেটা তো করা সম্ভব। আপনারা করছেন। আর কত করবেন ভাই? দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি কোনো পার্সেল অর্ডার করি নাই। ভবিষ্যতেও করবোও না বলে মন স্থির করেছি।’
জয়ের এই পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই তাকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অচেনা কোনো পার্সেল গ্রহণ না করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন অনেকে।
তবে কয়েকজন নেটিজেন বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেছেন। কেউ ডেলিভারি কর্মীকে আটকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ লিখেছেন, ‘সবই ওমর সানি ভাইয়ের ষড়যন্ত্র।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘অ্যাডলফ খান পেছনে লেগেছেন।’ এসব মন্তব্যের অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার নামে পার্সেল অর্ডারের পেছনে কে বা কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
https://slotbet.online/