রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা এবং বিস্ফোরণের পেছনের কারণ জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন- মো. আকাশ আহমেদ সামির ওরফে আবদুল্লাহ (২৫), মো. শাখাওয়াত হোসেন (৪৮) ও মো. নুর নবী (৩০)।
এর আগে তাদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম।
আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমনসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১০ অক্টোবর রাজধানী থেকে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানার জাহাঙ্গীর গেট থেকে আগারগাঁওগামী লিংক রোডের মাথায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ এবং দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।