যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের মধ্যে কাতার নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তবে এসব ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতি আবারও প্রমাণিত হয়েছে এবং সংকট কাটিয়ে কাতার আরও সক্ষম হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানী দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির বলেন, যুদ্ধের আগে নেওয়া নানা নীতির কারণেই আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাব সামলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সংকটের সময়ও জরুরি সেবা কমানো হয়নি এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারও বহাল রাখা হয়েছে। তেল ও গ্যাসবহির্ভূত খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এসব খাতের অবদান প্রকৃত জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি। অবকাঠামো, সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব ও বেসরকারি খাতে কাতার ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করে আমির বলেন, সর্বোত্তমের চেষ্টা করা যেমন কর্তব্য, তেমনি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক, সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
ভাষণে আমির বলেন, ইরান কাতারের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে। তবে কাতার সব সময় আলোচনা ও কূটনৈতিক পথে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস চলে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষায় উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে কাতার একাধিকবার ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। মার্চে বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফানেও হামলা হয়। যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে কাতারের অবস্থান অপরিবর্তিত বলে জানান আমির। তিনি গাজা উপত্যকার ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে বলেন, এর দায়ীদের জবাবদিহি এড়ানো চলবে না। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং আল আকসা মসজিদে বারবার অভিযানের বিপদ নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।আলজাজিরার দোহা প্রতিনিধি জানান, এলএনজি স্থাপনায় হামলার ফলে কাতারের সক্ষমতা ও অর্থনীতি যে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন আমির। সংকটের আগের অবস্থায় আর ফেরা যাবে না, এমন ইঙ্গিতও ছিল ভাষণে। প্রতিনিধির মতে, এর মানে কাতার তেল ও গ্যাসনির্ভর নয়, এমন শিল্পের দিকে আরও ঝুঁকবে।