প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটূক্তি করে ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সিফাত আব্দুল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাজীপুরের গাছায় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গত রবিবার গাছা রোড এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে বোর্ডবাজারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মোমিনুর রহমান মমিন, গাছা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুয়েল তাজ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহাম্মদ তুষার, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হাশেম, গাছা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মিয়া এবং গাছা থানা ছাত্রদল নেতা মো. আলিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মিছিল শেষে বক্তব্যে নেতারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বক্তারা আরও দাবি করেন, সিফাত আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো তুলে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলোর বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের কপি বা এর বিস্তারিত তথ্য সমাবেশে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিফাতকে গ্রেপ্তারের পর একটি পক্ষ থানা ঘেরাও করে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সিফাত আব্দুল্লাহ অতীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের একটি অংশকে জামায়াত ও এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। এ সময় বক্তারা বলেন, মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এ অধিকারের নামে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার বা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শালীনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মত প্রকাশ করা উচিত। বক্তারা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপিসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান। নিউজের জন্য শিরোনাম করে দেন
https://slotbet.online/