গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার বাদে কলমেশ্বর এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম আজাদ (৪২) চা:ঞ্চ’ল্যকর হ’ত্যা ও ডাকাতির ঘটনায় মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত মূল দুজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ীর দোকান থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার এবং হ’ত্যা’কা’ণ্ডে ব্যবহৃত র’ক্ত’মাখা চাকু উ’দ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার চৈথট্ট গ্রামের মো. মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৩১) এবং মধুপুর থানার জলছত্র এলাকার দরদরিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৭)।
নিহত আবুল কালাম আজাদ বাদে কলমেশ্বর ভূষির মিল রোড এলাকায় ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ নামে একটি জুয়েলারি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনার বিবরণে পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট দুপুরে আবুল কালাম আজাদের দোকান বন্ধ দেখে স্থানীয় গ্রাহকরা বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরবর্তীতে স্বজনদের খবর দেওয়া হলে নিহতের বড় ভাই মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয়রা এসে দেখেন দোকানের একটি শাটার ভেতর থেকে আটকানো এবং অপরটিতে বাইরে থেকে তালা দেওয়া। দোকানের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা খুলে ভেতরে গলায় ধারালো অ’স্ত্রে’র মারাত্মক আঘাতসহ আবুল কালাম আজাদের র’ক্তা’ক্ত মরদেহ উ’দ্ধার করে।
উক্ত ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে গাছা থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তে নেমে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে চার অজ্ঞাত ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে এবং ভোর ৫টা ১২ মিনিটে বের হয়ে যায়। ওই সময়ের মধ্যেই ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দোকান থেকে আনুমানিক ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে আইন-শৃ’ঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনায় তদন্তকারী দলের সদস্য এসআই মো. সাইফুল আলম, এএসআই মো. ইব্রাহিম মিয়া ও এএসআই মো. সেলিম মিয়াসহ অন্যান্য সদস্যরা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে চা’ঞ্চ’ল্যকর এই অপরাধের মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তারা। গাছা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত এবং হ’ত্যা’কা’ণ্ডে ব্যবহৃত র’ক্ত’মাখা চাকু উ’দ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার বাকি রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চলছে। আসামিরা অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।