নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পূর্ব শিমুলবাড়ী উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪টি সিলিং ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোনো প্রকার তালা ভাঙা কিংবা ভাঙচুরের চিহ্ন ছাড়াই ঘটে যাওয়া এই রহস্যজনক চুরির ঘটনা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্বহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পাঠদান শেষে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে যান। পরবর্তীতে রবিবার এসে শ্রেণি কক্ষের ১৪টি সিলিং ফ্যান রুমে দেখতে না পেয়ে তারা কোন অভিযোগ না জানিয়ে চুপচাপ । তালা না ভেঙে কীভাবে ফ্যান চুরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এ বিষয়ে এখনো জলঢাকা থানায় কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
ফ্যান চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিমাংশু কুমার রায় বলেন,ফ্যান চুরি হয়েছে সেটি আমি নিজের উদ্যোগে ফ্যানগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি। উদ্ধার করতে না পারলে পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে সরজমিনে বিদ্যালয়ে গেলে সেখানকার সহকারী শিক্ষিকা পল্লবী রানী,শ্যামলী খাতুন সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তারা বলেন,শিক্ষা উপমন্ত্রী আমাদের কে কোন তথ্য দিতে মানা করেছেন, তাই আমরা কেন আপনাদের কে ফ্যান চুরি বা অন্য সব তথ্য দিতে যাবো আপনাদের যা করার করেন,শ্যামলী খাতুন আরো বলেন,ল্যাবটপ,প্রজেক্টর আছে আমরা তো আইসিটির ট্রেনিং করি নাই তাই এগুলো নিয়ে কোন কথা হবে না আপনাদের সাথে, তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে বলেন, “আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় আমরা দেখছি, এখানে সংবাদকর্মীদের কাজ? শিক্ষিকার এমন বক্তব্যে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে,একজন স্থানীয় বলেন,পল্লবী রানী প্রতিনিয়ত স্কুলে আসেন ১১ টা কোন দিন ১২ টায়,প্রধান শিক্ষক তো আসে আবার ১ টায় বাড়ী যায়,
স্কুলের নথিপত্র অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১৫ জন দেখানো হলেও সরজমিনে উপস্থিতি দেখা গেছে মাত্র ২৯ জন। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার চরম মানহীনতা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অলসতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় কোনো সচেতন অভিভাবক এখানে সন্তানকে ভর্তি করান না। দিনের পর দিন শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনায় প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
চুরি ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও লাইন ব্যস্ত থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
https://slotbet.online/