• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ নিয়ে আলেমদের দুই দফা দাবি টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু, ঘাতক গাড়ি অজ্ঞাত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চাইলেন শামা ওবায়েদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কারচুপি হলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি গোলাম পরওয়ারের সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় টানা তৃতীয় দিন বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট নাগরী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা রহিম সরকার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে গ্রেপ্তার ১ ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ৩৬ বাংলাদেশি ফিরছেন দেশে ২৬ অক্টোবর সৌজন্য সাক্ষাৎ উপলক্ষে আগামীকাল আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ চট্টগ্রামে অংকুর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসন ও ৪৬ কোটি টাকা বৃত্তির দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

জবি প্রতিনিধি / ৫৪ টাইম:
আপডেট: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কেরানীগঞ্জে বরাদ্দকৃত ৭ একর জায়গায় ২০২৬ সালের ভেতরে অন্তত ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ বৃত্তির বকেয়া অর্থ অনতিবিলম্বে বণ্টনের জোরালো দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অপরাহ্ন ২ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির রফিক ভবনের প্রাঙ্গণে এই যৌথ প্রতিবাদী সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মানববন্ধনে জকসুর বিভিন্ন পদের প্রতিনিধি ও ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা স্পষ্ট করেন যে, জবিতে আবাসন সমস্যা দীর্ঘদিনের একটি বড় যন্ত্রণা।

 

পর্যাপ্ত হল সুবিধা না থাকায় নবীন-প্রবীণ সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ মেসে চড়া খরচে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। মানববন্ধনে নবীন শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ সিয়াম নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের আগমনের শুরুতেই হল ও আবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি, অন্তত অস্থায়ীভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে, তাদের জন্যও একটি স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের আহ্বান জানাচ্ছি।

 

একই সঙ্গে বৃত্তির বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধেরও দাবি জানাচ্ছি।’ সংগঠনের সমাজসেবা সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি প্রশাসন কে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে ৭ একর জমিতে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে; অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। পুরান ঢাকার মেসে শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে থেকে এই বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। এ ছাড়া, আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমরা সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় বলতে চাই আপনারা যদি চান, তাহলে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের এই মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে আমরা যখন আন্দোলন করেছি, তখন আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। তারা হয়তো জানে না, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা যায়, কিন্তু তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন থামানো যায় না।

 

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকা পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন-চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আপনি যদি এই কাজ না করেন, তাহলে একজন ব্যর্থ উপাচার্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সেই সক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের এই দাবি বাস্তবায়ন করবেন।’ কর্মসূচিতে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আমরা দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আজ যে দাবির জন্য আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে, সেখানে দাঁড়ানোর কথা ছিল না। ২০২৪ সালে আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এই প্রশাসনের অদক্ষতা, অকার্যকারিতা ও নানা ধরনের গড়িমসির কারণে আজ আবার আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে শুধু টেন্ডারবাজি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।আপনি কত টাকা দিয়ে উপাচার্য হয়েছেন কিংবা কার কাছে টেন্ডার দেবেন—এসব আমরা দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার চায়। সেই অধিকার নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে।’ সবশেষে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে জানান, গত মে মাসে আন্দোলন ও লাঠিচার্জের প্রেক্ষাপটে আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বাজেট পাস হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও দপ্তরগুলোর দুর্বলতা এবং অপারগতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭ একর জমিতে ৩ মাসের মধ্যে ১৬০০+ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং ১০ তলা ভবন নির্মাণের অজুহাতে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও টেন্ডার ধান্ধাবাজির চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। ৭ একরের সাড়ে ৬০০ শতাংশ জমির প্রকৃত ব্যবহার স্পষ্ট না করা এবং বাস টার্মিনালের জন্য জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জমির এক চুল পরিমাণও কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

Share this news as a Photo Card


আরো নিউজ

১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসন ও ৪৬ কোটি টাকা বৃত্তির দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

07 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com

১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসন ও ৪৬ কোটি টাকা বৃত্তির দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

07 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com