বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-সার্কেল-১, মিরপুর-১৩-এর মোটরযান পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আদেশ অমান্য, দালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে তাঁর আগের কর্মস্থল কক্সবাজার বিআরটিএতে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে গত ১৩ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ আবেদ আলী নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মামুনুর রশিদ বর্তমানে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-সার্কেল-১-এর মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। ফিটনেস শাখায় দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর প্রশাসনিক আদেশ থাকলেও তিনি সেখানে দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। পাশাপাশি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজের মতো করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, বিআরটিএতে গাড়ির ফিটনেস, কাগজপত্র ও বিভিন্ন ফাইলের কাজ করে দেওয়ার নামে মামুনুর রশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালালরা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন।
দালালের মাধ্যমে টাকা দিলে কাজ সহজে হয়ে যায়, এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। এদিকে, অনুসন্ধানে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি তাঁর কক্সবাজার বিআরটিএতে কর্মরত থাকার সময়কে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় ঘুষের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা নেই—এমন ব্যক্তিদেরও লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদেরও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর সাবেক কর্মস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি। কক্সবাজার বিআরটিএতে মামুনুর রশিদের অধীনস্থ ছিলেন এমন এক ব্যক্তি (দালাল)নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,মামুনুর রশিদ স্যার টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতেন না।
যত অসম্ভব কাজ ছিল, স্যারকে একটু বাড়তি টাকা দিলে তা-ই সম্ভব হয়ে যেত। লিখিত, মৌখিক ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা না দিয়েও স্যার ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দিতেন। সূত্রে জানা গেছে, মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে তাঁর একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। চাকরির সুবাদে অবৈধভাবে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযোগগুলোর সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি শুধু রোহিঙ্গাদের না, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ডের নাগরিকদেরও লাইসেন্স দিয়েছি।” এরপর তিনি সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একজন মোটরযান পরিদর্শকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আদেশ অমান্য, দালালের মাধ্যমে অর্থ আদায়, অনিয়মের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয় মুঠোফোনে কথা হয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সাথে। তিনি বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সেটি আমরা খতিয়ে দিচ্ছি। গণমাধ্যম কর্মীর সাথে যদি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকে সেটিও আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব ।
https://slotbet.online/