জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মাত্র ৭ একরের ক্ষুদ্র পরিসরের ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম অবহেলা দেখা গেছে। উপাচার্য ভবনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেলা বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা বিনষ্টের পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ক্যাম্পাসের আয়তন অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় ভিসি ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনের পাশে খোলা অবস্থায় জমে থাকা ছোট-বড় বর্জ্যের স্তূপ সহজেই পথচারীদের চোখে পড়ে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাব, বর্জ্য অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঢিলেঢালা ভাব এবং উন্নয়নমূলক কাজের জের ধরে এই অপরিচ্ছন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ব্যস্ততম চলাচলের স্থানগুলোতে মারাত্মক দূষণ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, কেবল সাময়িক বর্জ্য অপসারণই যথেষ্ট নয়; বরং পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে প্রশাসনিক ও সচেতনতামূলক স্থায়ী উদ্যোগ দরকার।
ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে নবীন শিক্ষার্থী মৃদুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এমনিতেই ছোট ক্যাম্পাস, এর মধ্যে নানা সংকটে ভুগতে হচ্ছে। তার ওপর বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ জমে থাকায় ক্যাম্পাসের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন এসব বিষয়ে একেবারেই উদ্যোগ নেয় না। ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের বিষয়গুলো প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ময়লার স্তূপগুলো পরিষ্কার করার কথা ছিল। এসব বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাদেরই এগুলো সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল। তবে একবারে সব বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব না হওয়ায় কিছু ময়লা এখনো পড়ে আছে।
তিনি আরও যোগ করেন, “উপাচার্য ভবনের পাশে থাকা কিছু সামগ্রী মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ক্যাম্পাসে ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে বিভিন্ন স্থানে ময়লা ও নির্মাণসামগ্রী জমেছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝির মধ্যেই এসব ময়লা ও সামগ্রী সরিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।”
অনুরূপ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “ভিসি ভবনের বাম পাশের বিষয়টি জানা নেই। দেখে ঠিক বলতে হবে। অফিস টাইমে বললে আমরা লোক পাঠিয়ে দেখতে পারতাম। কাল বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ওইদিকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের গেটের ডান দিকে একটি স্তূপ আছে, সেটি আমি নিজে দেখেছি। নির্মাণকাজ শেষ হলে তারা এটি সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে। কিছুটা কাজ বাকি আছে, কাজ শেষ হলে তারা একবারে নিয়ে যাবে।”
https://slotbet.online/