উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছিলেন ৫৩ বাংলাদেশিসহ ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। উত্তাল সমুদ্রে নৌযান বিকল হয়ে যাওয়ার পর তাদের উদ্ধার করে মিশরের দম্মিয়াত বন্দরে নিয়ে আসে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।এরপর থেকে মিশরে আটক থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শেষ দফায় আরও ৩৬ বাংলাদেশি আগামী ২৬ অক্টোবর দেশে ফিরছেন।মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অর্থায়নে তাদের দেশে ফেরার বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা শুরু করেন মোট ৬৭ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিক।যাত্রাপথে ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি বিকল হয়ে যায়। একপর্যায়ে নৌকার ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক ওয়াগেনবর্গ শিপিংয়ের আইজেবর্গ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে মিশরের দম্মিয়াত বন্দরে নিয়ে আসে।উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আরও প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছালে সবার প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। প্রাণে বেঁচে গেলেও এরপর তাদের মিশরের দম্মিয়াতে আটক থাকতে হয়।গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দম্মিয়াত কারাগার পরিদর্শন করে সেখানে আটক ৫৩ বাংলাদেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়া হয়।ঘটনার পর থেকেই কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস মিশরীয় পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা, কারা কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আসছে।
আটক বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।দূতাবাসের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আইওএমের অর্থায়নে ৫৩ বাংলাদেশির বিমান টিকিট সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দফায় প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার শেষ দফায় ৩৬ বাংলাদেশি আগামী ২৬ অক্টোবর দেশে ফিরছেন।প্রবাসে উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া এসব মানুষের জন্য দেশে ফেরার খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তির। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে তারা আবারও পরিবারের কাছে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছেন তাদের স্বজনেরা।
তবে এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় অনিয়মিত পথে সমুদ্রযাত্রা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ বেছে নেওয়া জরুরি।দম্মিয়াতে আটক ৫৩ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের শেষ দফায় ৩৬ জনের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।