নিজের মতো দেখতে কাউকে দিয়ে নয়, এবার নিজের চেহারা ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করেই তৈরি করা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ছবি ও ভিডিও। এজন্য নতুন ‘পারসোনাল অ্যাভাটার’ সুবিধা চালু করেছে গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনি। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চেহারা ও কণ্ঠস্বরের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করতে পারবেন। পরে সেই অ্যাভাটার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও বানানো যাবে। ফলে প্রতিবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন করে ভিডিও ধারণের প্রয়োজন হবে না।
জেমিনির নতুন সুবিধাটির বিশেষ দিক হলো, নিজের তৈরি অ্যাভাটার অন্যদের ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া যাবে। এজন্য বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের জি-মেইল ঠিকানায় আমন্ত্রণ পাঠাতে হবে। আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে তারাও নিজেদের তৈরি এআই ছবি ও ভিডিওতে অ্যাভাটারের মালিকের চেহারা ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অ্যাভাটার কারা ব্যবহার করতে পারবেন, সে সিদ্ধান্ত থাকবে মূল মালিকের হাতে। চাইলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে। আবার কত দিন পর্যন্ত সেই অনুমতি কার্যকর থাকবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
ব্যক্তিগত অ্যাভাটার তৈরির জন্য প্রথমে নিজের চেহারার ছবি তুলতে হবে এবং কণ্ঠস্বর ধারণ করতে হবে। কম্পিউটার থেকে প্রক্রিয়াটি শুরু করলে জেমিনি একটি কিউআর কোড দেখাবে। এরপর স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট দিয়ে কোডটি স্ক্যান করে ফোনের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর রেকর্ড করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর জেমিনির সাহায্যে তৈরি হবে ব্যক্তিগত অ্যাভাটার। একবার অ্যাভাটার তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে নতুন ছবি ও ভিডিও তৈরির সময় সেটি ব্যবহার করা যাবে। তবে অ্যাভাটার দিয়ে ভিডিও তৈরির সুবিধা পেতে প্রয়োজন হবে গুগল এআই প্ল্যান।
ব্যক্তিগত অ্যাভাটার অন্য কাউকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি সেই অনুমতি প্রত্যাহারের ব্যবস্থাও রেখেছে গুগল। জেমিনাইয়ের সেটিংস থেকে অ্যাভাটার ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। প্রয়োজনে যে কোনো সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশাধিকার বাতিল করা সম্ভব।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। কারো অ্যাভাটার ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করলে তিনি সেটি দিয়ে নতুন করে ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে পারবেন না। কিন্তু অনুমতি বাতিলের আগে তৈরি করা কনটেন্ট মুছে যাবে না, সেগুলো আগের মতোই থাকবে।
নিজের চেহারা ও কণ্ঠস্বরের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরির এই সুবিধা কনটেন্ট নির্মাণকে আরও সহজ করতে পারে। তবে অ্যাভাটার অন্যের সঙ্গে শেয়ার করার আগে কাকে এবং কত দিনের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ নিজের চেহারা ও কণ্ঠস্বরের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখা গুরুত্বপূর্ণ।