• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের আবেদন, ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালো রং: চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর, দুজনের ৩ দিন করে মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় নিখোঁজ ৩ জন ছাত্রদল নেতা খান সাইফুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ২১৯৩ জন এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও কণ্ঠ নকল করা হারাম: শায়খ সুদাইস সকালে ব্রাশ না করে নাশতা করলে দাঁত ও মাড়ির যেসব ক্ষতি হতে পারে এআই দিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের পডকাস্ট তৈরিতে হাক্সের প্রযুক্তি নিচ্ছে অ্যাপল দুর্গাপূজায় ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু, ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল পাপারাজ্জিদের বাড়াবাড়িতে ক্ষুব্ধ সালমান খান, দিলেন কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

বন্ধ হচ্ছেনা নকল ওষুধ তৈরির প্রবণতা

রিপোর্টারের নাম / ৩৯৮ টাইম:
আপডেট: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশজুড়েই অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও ভেজাল ওষুধ। নানা উদ্যোগেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বরং রাজধানীসহ সারাদেশে নিম্নমানের ওষুধের ছড়াছড়ি।

মূল কোম্পানির ওষুধের মতো হুবহু লেবেলে নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। আর এসব ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা। দেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নকল ওষুধ তৈরির রমরমা ব্যবসা। নকল বা ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বহুল আলোচিত। দিন দিন এসব ভেজাল ওষুধ তৈরির প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

এক শ্রেণির অসৎ ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বাজারে বিক্রয় করছেন বিভিন্ন ধরনের নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা জমজমাট। অনেক ট্যাবলেট-ক্যাপসুল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোর ভেতরে সাধারণ আটা-ময়দা ছাড়া কিছুই নেই। সিরাপের মধ্যে আছে শুধু রং। সরল বিশ্বাসে ওষুধ কিনে প্রতারিত হয় ক্রেতা।

ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির কারখানায় গোপনে তৈরি হচ্ছে দেশের নামি অ্যালোপ্যাথিক কোম্পানির ওষুধ। আটা, ময়দা, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গ্যাস্ট্রিক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ওষুধ। মিটফোর্ডকেন্দ্রিক একটি চক্রের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কম দামে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

আটা-ময়দা-কেমিক্যাল প্রভৃতি মিশিয়ে তৈরি করা নকল ওষুধ রোগ সারানোর বদলে ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের নকল ওষুধ ক্রয় করে মানুষ কীভাবে প্রতারিত হচ্ছে, তা বারবার গণমাধ্যমে এসেছে। বাংলাদেশে ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ক্ষতিকর প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে কয়েক হাজার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এর সংখ্যা প্রায় দুই হাজারেরও বেশি বলা হয়েছে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হিসাবে। বাংলাদেশে নকল ও ভেজাল ওষুধ কি পরিমাণে তৈরি হয় তার সঠিক কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার কাজে অনেক ছোট কোম্পানিও জড়িত আছে-এমন তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের লাইসেন্স দেওয়া থেকে শুরু করে লাইসেন্স নবায়ন পর্যন্ত ১৩ খাতে ৫ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূত অর্থ বা ঘুষ আদায় হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, মাসের পর মাস ঘুরেও তারা প্রয়োজনীয় ফাইলে অনুমোদন নিতে পারছেন না। অন্যদিকে নকল ওষুধ তৈরী কারখানাগুলোর মালিকদের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ফলে বন্ধ হচ্ছে না নকল ওষুধ তৈরি। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এখন দুর্নীতিবাজদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, স্কয়ার ফার্মার সিপ্রোসিন নামে এন্টিবায়োটিকের প্রতি পিসের পাইকারি মূল্য সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ টাকা পড়ে, সেখানে তিনি চার থেকে পাঁচ টাকায় তিনি কেনেন। কিছুদিন পর তার ভুল ভেঙে যায়। জানতে পারেন, একটি চক্র নামিদামি কোম্পানির নকল ওষুধ উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। এরপর থেকে তিনি কোম্পানি কর্মী ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে ওষুধ কেনেন না। মিটফোর্ডে ওষুধের দোকান আছে এমন অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী জানান, প্রথমে তারা মনে করতেন, বড় কোম্পানির এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা বা কর্মচারী লট চুরি করে বাজারে বিক্রি করছে।

এ কারণে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। গত বছরের ১১ আগস্ট ওষুধ আইন ২০২২-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রীসভা। এই আইন অনুযায়ী ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করলে যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ওষুধে ভেজাল মেশালে বা ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, বিক্রয় ও মজুদ করার ক্ষেত্রেও যাবজ্জীবন শাস্তি পেতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলেও যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যাবে। এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া বা লাইসেন্সে উল্লেখ করা শর্ত না মেনে ওষুধ উৎপাদন করলে, নিবন্ধন ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, বিতরণ, প্রদর্শন করলে, সরকারি ওষুধ বিক্রয় বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মজুদ বা প্রদর্শন করলে, লাইসেন্স ছাড়া বা লাইসেন্সের শর্ত না মেনে ওষুধ আমদানি করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বাংলাদেশি উৎপাদিত ওষুধের সুনাম ও চাহিদা বিদেশে বাড়ছে। ওষুধ শিল্পে দেশ অভাবনীয় উন্নতি করলেও ভেজাল ওষুধে দেশের বাজারে সয়লাব। ওষুধের মান নিয়ে তাই প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভেজাল, নকল ও নি¤œমানের ওষুধ সেবন করে রোগীরা আরো জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক সময় এসব ওষুধ সেবনে রোগী মারাও যাচ্ছে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুবহু ‘আসল’ মোড়কে গ্যাস্ট্রিক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের নকল ওষুধ বাজারে ছাড়ছে।

যা দেখে ভোক্তাদের আসল-নকল পরখ করা অনেকটাই দুঃসাধ্য। তথ্য রয়েছে, এ চক্রকে সহযোগিতা করছে অতি মুনাফালোভী কতিপয় ফার্মেসি মালিক। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য কোনভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। এক সূত্র থেকে জানা গেছে, ওষুধ প্রশাসনের অসাধু চক্র রহস্যজনক কারণে বাজার থেকে নকল ওষুধ জব্দ করার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না গত কয়েক মাস ধরে। এমনকি নিষিদ্ধ কোম্পানীগুলোর ওষুধ তৈরী ও বাজারজাত করার সুযোগ দিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card


আরো নিউজ

বন্ধ হচ্ছেনা নকল ওষুধ তৈরির প্রবণতা

25 November 2023
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com

বন্ধ হচ্ছেনা নকল ওষুধ তৈরির প্রবণতা

25 November 2023
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com