রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় কিছু মসলা যোগ করেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে দারুচিনি ও রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এই দুই মসলারই রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণ। প্রতিদিনের রান্নায় সহজেই এগুলো যোগ করা যায়। তবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে শুধু দারুচিনি বা রসুনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির পুষ্টিবিদ কেরি গ্যানস জানান, দারুচিনি শরীরে চর্বি ও কোলেস্টেরল প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলে। ফলে এটি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি কোনো জাদুকরি সমাধান নয়, বরং হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনি মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা কমাতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তবে গবেষণার ফলাফল একরকম নয়। তাই উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু দারুচিনির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
দারুচিনি ওটমিল, দই, কফি বা ফলের পানীয়তে মিশিয়ে খাওয়া যায়। ঝাল খাবার ও ভাজা সবজিতেও এটি ব্যবহার করা যায়। পুষ্টিবিদ কেরি গ্যানসের মতে, শুধু দারুচিনি নয়, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই স্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দারুচিনিতে থাকা সিনামালডিহাইড ও পলিফেনলের মতো উপাদান রক্তে চর্বির মাত্রা বজায় রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের পুষ্টিবিদ হুইটনি স্টুয়ার্টের মতে, কোলেস্টেরল কমাতে রসুন উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন বা এর সম্পূরক খাবার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করতে পারে। রসুন থেঁতো বা কুচি করলে অ্যালিসিনের মতো সালফারযুক্ত যৌগ তৈরি হয়। এগুলো যকৃতে কোলেস্টেরল উৎপাদন কমাতে এবং এলডিএলের জারণ রোধে সহায়তা করতে পারে। এলডিএলের জারণ ধমনিতে চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্টুয়ার্টের পরামর্শ, রসুন কুচি বা থেঁতো করার পর রান্নার আগে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এতে অ্যালিসিন তৈরি হওয়ার সময় পায়। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রসুন ওষুধের বিকল্প নয়।
খাবারে রসুন ব্যবহার করলে লবণ ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত সসের ব্যবহার কমিয়েও স্বাদ বাড়ানো যায়। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে রসুন সহজেই মানিয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে শিমজাতীয় খাবার, মসুর ডাল, শাকসবজি ও অতিরিক্ত পরিশোধন না করা জলপাইয়ের তেল।
জলপাইয়ের তেলে শাক ভাজার সময় রসুন যোগ করা যায়। সালাদের জন্য তৈরি সসেও রসুন মেশানো যেতে পারে। এছাড়া ঝাল খাবার বা মসুর ডালের স্যুপে রসুন ব্যবহার করা যায়। চাইলে গোটা রসুন ভেজে কোয়াগুলো পাউরুটির ওপর মাখিয়ে খাওয়া যায়। স্টুয়ার্ট আরও বলেন, রসুনের গুঁড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে। ভাজা সবজি, ডিম কিংবা মুরগির মাংসের কিমায় এটি মিশিয়ে খাবারের স্বাদ বাড়ানো যায়।
সূত্রঃ ভেরিওয়েল হেলথ