গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, অনুমোদন ছাড়া বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার এবং অবৈধভাবে সিএনজি সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার আমবাগ ও রাজাবাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসন ও এনএসআইয়ের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমবাগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় জোস ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাদামের বার, তিলের নাড়ু ও চানাচুর উৎপাদন করা হচ্ছিল। এছাড়া বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই পণ্যে সংস্থাটির লোগো ব্যবহার করে বাজারজাত করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। এসব অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় কারখানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মুজিবুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকার এমএম গার্মেন্টস সংলগ্ন রসরাজ সুইটস কারখানায় অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে রসগোল্লা, চমচম, রসমালাই ও দই উৎপাদন ও পাইকারি বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, কোনাবাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকায় রুবেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে অবৈধ উপায়ে গাড়িতে করে সিএনজি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে বিক্রির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন ও ঝুঁকি নিয়ে গ্যাস সরবরাহের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ গ্যাস আইন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অবৈধ গ্যাস সরবরাহ রোধে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিন প্রতিষ্ঠানে আদায়কৃত মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে