শক্তির বিচারে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবধানটা স্পষ্ট। ঢাকায় চলমান বেগম খালেদা জিয়া চার জাতি নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে লিগ পর্বের লড়াইয়েই তা বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত।
বাংলাদেশকে ৪৭-১৩ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে ভারতীয় মেয়েরা। এবার শিরোপার লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি দুই দল। ব্যবধানটা কমিয়ে এনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল উপহার দেওয়াই বাংলাদেশের মেয়েদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। লিগ পর্বে ৩৪ গোলের ব্যবধানে হারের পর শিরোপার লড়াইয়ে ভারতকে হারানো বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তবে আগের ম্যাচের ভুল শুধরে নিজেদের সেরাটা দিতে চান স্বাগতিকরা। ভারতের শক্তিমত্তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকায় এবার তাদের দ্রুত আক্রমণ সামলানো এবং রক্ষণে আরও কার্যকর হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।
ফাইনালের প্রস্তুতিতে বুধবার অনুশীলনে ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানো এবং বলের দখল ধরে রাখার কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে হলে তাদের ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ কমিয়ে আনতে হবে।
কোচ বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাদের ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ কম দিতে হবে। আমার চোখে, ভারত পুরো ৬০ মিনিট দ্রুত গতিতে খেলার মতো সক্ষম। লিগ ম্যাচে সেটা দেখেছি। ফাস্ট ব্রেকে যখন ওরা ছুটে আসছিল, আমরা ওদের আক্রমণ থামাতে পারিনি। তাই আমার কাছে মূল বিষয় হলো, ভারতকে যেন ফাস্ট ব্রেকে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।’
ভারতকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মানলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশের কোচ। আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো খেলার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার প্রত্যাশা তার, ‘আমার বিশ্বাস আগের ম্যাচের চেয়ে আমরা আরও ভালো করতে পারব। আর আমরা ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারব বলেই মনে করি। আমার লক্ষ্যও তাই। আরও ভালো খেলতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।’
আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে ঘুরে দাঁড়াতে চান বাংলাদেশের খেলোয়াড় মাসুদা আক্তারও। তিনি মনে করেন, সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভালো ফল সম্ভব। মাসুদা বলেন, ‘আমরা যদি এই ভুলগুলো সংশোধন করতে পারি, অবশ্যই কালকে আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারব। কিন্তু আমরা সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, অবশ্যই একটা ভালো রেজাল্ট করব। লিগ ম্যাচে যেমন গোল খেয়েছি, তার চেয়ে যাতে এবার গোল কম হয়, সে লক্ষ্যও থাকবে।’
একই প্রত্যাশা আছিয়া আক্তারেরও। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে চান বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। ভারতের আক্রমণাত্মক খেলার ধরন জানা থাকলেও ফাইনালে লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে চান তারা।
শিরোপার মঞ্চে বাংলাদেশের সামনে তাই দুটি বড় চ্যালেঞ্জ-ভারতের গতিময় আক্রমণ সামলানো এবং লিগ পর্বের বড় পরাজয়ের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। ব্যবধান কমিয়ে এনে লড়াই জমিয়ে তুলতে পারলেই স্বাগতিকদের জন্য সেটি হবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।