আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই আবুধাবির জায়েদ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন জাতি ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আবুধাবি সময় বিকেল ৩:৩০টা, বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা।
জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের সামনে কোনো নতুন প্রতিপক্ষ নয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যতগুলো দলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়েকে হারানোর অনেক রেকর্ড আছে। দেশে এবং দেশের বাইরে দু’জায়গাতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব আছে। বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও জিম্বাবুয়েকে হারানোর নজির আছে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, এ বছরই জিম্বাবুয়ের মাটিতে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২-১-এ হেরেছে। সেই সিরিজে বাংলাদেশ জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলার ব্লেসিং মুজারাবানি, নিয়াহুরি নিউম্যানসহ অন্য ফাস্ট বোলার, যেমন রিচার্ড এগারাভা, ব্র্যাড ইভান্স এবং অফ স্পিনার সিকান্দার রাজার সাঁড়াসি বোলিংয়ে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে হেরেছে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের উইকেটে স্বাভাবিকের তুলনায় বাউন্সটা বেশি থাকে এবং উইকেট অনেক বেশি সজীব ও প্রাণবন্ত ছিল। বল ব্যাটে এসেছে, ক্যারি ও করেছে বেশ। সেই জায়গাটাতে বাড়তি গতিতে বেসামাল না হলেও বাড়তি বাউন্সে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি টাইগাররা।
এবার আবুধাবির মাটিতে যে উইকেটে খেলা হবে, সেই উইকেট জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের উইকেটের মতো অত সজীব, প্রাণবন্ত এবং বাউন্সি নয়। সেখানে বল তুলনামূলক ধীরগতিতে আসবে এবং অনেকটাই ব্যাটিং-সহায়ক, বাউন্সও থাকবে তুলনামূলক কম। কাজেই বাংলাদেশের আদর্শ পরিবেশ- মাঝারি গতি, মাঝারি বাউন্স এবং কম ম্যুভমেন্ট- এর সবই থাকবে আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে। সুতরাং আশা করা যায়, বাংলাদেশের ভালো খেলার সম্ভাবনা এবং সুযোগ দুই’ই এখানে বেশি। ভক্তদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে তিন জাতি ওয়ানডে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করবে।
এখন কী ধরনের একাদশ এই কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য আদর্শ হতে পারে, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, বলছেন। কারও কারও মুখে শোনা যাচ্ছে, তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে সাইফ হাসান নয়, সৌম্য সরকারকে দেখা যেতে পারে। সে সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ভেতরের খবর, অন্তত প্রথম ম্যাচে সাইফ হাসানকেই খেলানোর সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ তানজিদ তামিম-সাইফ জুটিই হয়তো উদ্বোধনী জুটিতে দেখা দিতে পারে।
এরপর তিন নম্বরে অবশ্যই নাজমুল হোসেন শান্ত, চারে খেলবেন লিটন দাস, পাঁচে তাওহীদ হৃদয়, ছয়ে মোসাদ্দেক হোসেন। সাত নম্বর পজিশনটা নিয়ে অনেকেই খানিক সংশয়ে। সেখানে কি মেহেদী হাসান মিরাজকে দেখা যাবে, নাকি উইকেটরক্ষক অপশন নুরুল হাসান সোহান খেলবেন, নাকি রিশাদ হোসেন খেলবেন- এটা নিয়ে জোর জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মোসাদ্দেক দলে থাকলে এবং লিটন ফর্মের তুঙ্গে থাকায় লিটন দাস কিপিং করলে সোহানের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এখন দেখা যেতে পারে, রিশাদকে খেলানো হয় কি না, নাকি মিরাজ অলরাউন্ডার কোটায় খেলবেন।
জানা গেছে, মিরাজ একটু অসুস্থ। সে ক্ষেত্রে সাত নম্বরে রিশাদ এবং আট নম্বরে আলিস আল ইসলামের দলে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা প্রবল। অর্থাৎ স্পিন অপশন হিসেবে খানিক অসুস্থ মিরাজের পরিবর্তে আলিস ইসলাম, তার সঙ্গে লেগ স্পিন অপশন রিশাদ হোসেন। এর সঙ্গে তিনজন পেসার। সেই জায়গায় ডানহাতি তাসকিন, বাঁ-হাতি শরিফুল এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে দেখা যেতে পারে।
যদিও ফর্মের বিবেচনায় এদের তিনজনের চেয়ে এগিয়ে আছেন হাসান মাহমুদ। কিন্তু যেহেতু তিনি টেস্ট খেলেছেন, খানিক ক্লান্তি ও অবসাদ আছে এবং টেস্টে দীর্ঘ সময় ধরে লম্বা স্পেলে বল করেছেন, কাজেই হাসান মাহমুদকে প্রথম ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাসকিন, শরিফুল, মোস্তাফিজের খেলার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে দুজন বাঁ-হাতি পেসার শেষ পর্যন্ত খেলানো হবে কি না, সেটা নিয়েও রয়েছে আরেক সংশয়। সুতরাং, তাসকিন, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজ আর শরিফুলের যে কোনো একজন হয়তো পেসার কোটায় খেলবেন। সবশেষ কথা হচ্ছে, ছয়জন ব্যাটার, তিনজন পেসার, দুজন স্পিনার- এই হতে পারে বাংলাদেশের আজ ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন জাতি ক্রিকেটে সম্ভাব্য প্রথম একাদশ।