ভাইয়ের হত্যার বিচার ভিন্নখাতে নিতেই কি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার?
ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তের অগ্রগতি কি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে? আর সেই উদ্দেশ্যেই কি রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলে নিজের বিরুদ্ধে কথিত অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের জোন-০৫ (কাউলতিয়া)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছরের চাকরিজীবনে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে কখনো আপস করেননি। অথচ চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মুখে পড়তে হচ্ছে। এর পেছনে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। জাকির হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরায় সোনারগাঁও জনপথ রোড এলাকায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সময় ছুরিকাঘাতে নিহত হন তাঁর ছোট ভাই শরীফ উল্লাহ। ব্যবসার কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি দুই সন্তান রেখে যান। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা।জাকির হোসেনের অভিযোগ, ছোট ভাইয়ের হত্যা মামলার তদন্তে প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের অসন্তোষ ছিল। এ কারণে তাঁরা বিষয়টি মেনে না নিয়ে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। বড় ভাই হিসেবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করে আসছেন বলেও দাবি করেন।তাঁর আশঙ্কা, দীর্ঘদিন পর মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোর সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রচারণার উদ্দেশ্য এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণার পেছনে কারা রয়েছে কিংবা হত্যার বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ভাই হারানোর বেদনা, দুই এতিম সন্তানের ভবিষ্যৎ
জাকির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও তিন বোন। তাঁদের ছোট ভাই শরীফ উল্লাহর আকস্মিক মৃত্যু পরিবারটিকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দেয়। পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর বেদনার পাশাপাশি তাঁর রেখে যাওয়া দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।তিনি জানান, ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোড এলাকায় টাকা উত্তোলনের সময় তাঁর ভাই ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ব্যবসার কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা পরিবারের কাছে এখনো বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।একজন স্বজনকে হারানোর শোক সময়ের সঙ্গে কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা পরিবারের জন্য দীর্ঘ মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাকির হোসেনের বক্তব্যেও সেই বিচারপ্রত্যাশার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি চান, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক।
পিবিআইয়ের তদন্তে অসন্তোষ, বর্তমানে সিআইডিতে মামলা
শরীফ উল্লাহ হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়ে জাকির হোসেন জানান, বিগত সরকারের সময় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন নিয়ে তাঁদের আপত্তি থাকায় তাঁরা সেটি মেনে নেননি বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।জাকির হোসেনের দাবি, বর্তমানে সিআইডি মামলাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তাঁর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।তবে মামলার বর্তমান তদন্তের পর্যায়, অভিযোগপত্র দাখিলের অবস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাকির হোসেনের আশঙ্কা অনুযায়ী, তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার কোনো চেষ্টা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্যও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
চাকরি, আয়-ব্যয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে জাকির হোসেন বলেন, তাঁর চাকরি, আয়-ব্যয় এবং আর্থিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, অফিসের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এসব বিরোধের জেরে কোনো অসাধু চক্র তাঁকে হেয় করার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।জাকির হোসেনের ভাষ্য, রাজস্ব বিভাগে প্রায় ৩৩ বছরের কর্মজীবনে তিনি জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে আপস করেননি। দীর্ঘ চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের অপপ্রচারের মুখোমুখি হওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।তিনি মনে করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা উচিত। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হলে তাঁর সম্মান ও কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে অপপ্রচারের পেছনে কোনো কর্মকর্তা বা চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
পারিবারিক ব্যবসা, জমি ও ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যাখ্যা
নিজের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাকির হোসেন জানান, তাঁদের পরিবারের একটি ব্যবসা ছিল। তাঁর ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যায়।তিনি আরও জানান, ২০০১ সালে তিনি তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে এক বছরের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে পর্যায়ক্রমে মোট এক কোটি টাকা ঋণ নেন। তাঁর দাবি, সুদসহ বর্তমানে ওই ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।জাকির হোসেন বলেন, তাঁর পরিবারের আয়-ব্যয়ের তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে তাঁর আর্থিক অবস্থার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।তবে জমি ক্রয়, ব্যাংকঋণের পরিমাণ, ঋণের বর্তমান স্থিতি এবং আয়কর নথির তথ্য এ প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
উত্তরার বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ
জাকির হোসেনের বক্তব্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে গত ২৮ অক্টোবরের একটি ঘটনা। তাঁর অভিযোগ, ওই দিন উত্তরায় তাঁর বাসায় একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি যান এবং বাসার নিরাপত্তারক্ষীর কাছে তাঁর ব্যক্তিগত চলাচল সম্পর্কে জানতে চান।জাকির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তিনি কখন বাসায় ফেরেন, কখন বের হন এবং বাসায় কারা থাকেন—এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করেন এবং কয়েকবার ফোন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন ধরেননি বলে দাবি করেন তিনি।জাকির হোসেন আরও জানান, কিছুক্ষণ পর তাঁকে বলা হয়, তাঁর খোঁজ নেওয়ার জন্য ১৫ নম্বর রোডের একজন ব্যবসায়ীকে খুঁজতে বলা হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে তাঁর অভিযোগ।ঘটনাটিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত চলাচল ও বাসায় কারা থাকেন, সে সম্পর্কে জানতে চাওয়ার কারণ তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। এ কারণে তাঁকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।তবে অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য কিংবা কোনো হুমকির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে বাসার নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা এবং সংশ্লিষ্ট ফোনালাপ বা যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সিআইডিকে অবহিত, আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি
জাকির হোসেন জানান, উত্তরার বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তির খোঁজ নেওয়ার বিষয়টি তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যা মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সিআইডির পরিদর্শককে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি আইনজীবীর মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।তাঁর বক্তব্য, ছোট ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।জাকির হোসেনের সন্দেহ, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্য এবং বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তির খোঁজ নেওয়ার ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এই সন্দেহের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। যথাযথ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।
গণমাধ্যমের প্রতি জাকির হোসেনের আহ্বান
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমের প্রতি সতর্কতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন জাকির হোসেন। তাঁর অনুরোধ, কোনো বিষয়ে তাঁর বক্তব্য না নিয়ে কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই না করে তাঁর সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তা তাঁকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।তিনি বলেন, তাঁর আয়-ব্যয়ের তথ্য পরিবারের আয়কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে এসব বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন থাকলে তা যাচাই করে এবং তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।জাকির হোসেনের মতে, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো প্রচারণা চালানো উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।
ভাইয়ের হত্যার বিচার কি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা?
জাকির হোসেনের বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসার পর কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচারিত তথ্যের উৎস কী? উত্তরায় তাঁর বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তির খোঁজ নেওয়ার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল? এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের হত্যা মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না?এ মুহূর্তে এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। জাকির হোসেনের আশঙ্কা ও অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করাও সমীচীন হবে না। বরং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলার নথিপত্র, অনলাইনে প্রচারিত তথ্যের উৎস এবং বাসায় অজ্ঞাত ব্যক্তির যাওয়ার ঘটনার প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করা জরুরি।একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য ধরে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা উচিত।জাকির হোসেনের প্রত্যাশা, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে, তাঁর নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং তাঁর ছোট ভাই শরীফ উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারটির অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হোক—এটাই তাঁর দাবি।এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, আর্থিক তথ্য এবং অজ্ঞাত ব্যক্তির খোঁজ নেওয়ার বিষয়গুলো রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।