প্রশ্ন: অনেক সময় অজু করার জন্য হাতা গোটানোর পর ওই অবস্থায়ই তাড়াহুড়া করে নামাজ শুরু করি, পরে খেয়াল করি আমি হাতা গোটানো অবস্থায় নামাজ পড়ছি। প্রশ্ন হলো, এ রকম পরিস্থিতিতে করণীয় কী? নামাজ ভেঙে আবার শুরু করবো? হাতা গোটানো অবস্থায় নামাজ পড়লে ওই নামাজ কি হবে?
উত্তর: পাঞ্জাবি-জামা ইত্যাদির হাতা গুটিয়ে নামাজ আদায় করা মাকরুহ। এ ভাবে নামাজ আদায় করলে নামাজ নষ্ট হবে না, কিন্তু নামাজের আদব পরিপন্থী হবে।
রাসুল (সা.) পোশাকের কোনো অংশ গোটানো অবস্থায় নামাজে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কপাল, (এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশরা করে নাককেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন,) আর দুই হাত, দুই হাঁটু, দুই পায়ের আঙ্গুলসমূহ। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় না গুটাই। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
হাতা গুটিয়ে সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের দরবারে উপস্থিত হওয়াকে যেহেতু লজ্জাজনক মনে করা হয়, তাই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্র দরবারেও এ অবস্থায় উপস্থিতি লজ্জাজনক।
আল্লাহ তাআলা সৌন্দর্য গ্রহণ করে উত্তম পোষাক পারে নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বনী আদম! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে, আহার করবে ও পান করবে কিন্তু অপচয় করবে না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ: ৩১)
ভুল করে হাতা গোটানো অবস্থায় নামাজ শুরু করলে এবং নামাজের মধ্যে বিষয়টি খেয়াল হলে ‘আমলে কাসির’ না করে গোটানো হাতা সোজা করে নেবে।
ফিকহের পরিভাষায় নামাজে ‘আমলে কাসির’ বলা হয় এমন অতিরিক্ত বা বড় ধরনের নড়াচড়া করাকে যা দেখলে বাইরের কোনো ব্যক্তির মনে এই নিশ্চিত ধারণা জন্মায় যে মুসল্লি এই মুহূর্তে নামাজে নেই। যেমন দুই হাত দিয়ে টুপি ঠিক করা বা দুই হাত ব্যবহার করে অন্যান্য কাজ করা, পকেট থেকে মোবাইল বের করে স্ক্রিন দেখা, মাথা ঘুরিয়ে এদিক-সেদিক বারবার তাকানো ইত্যাদি। নামাজের মধ্যে আমলে কাসির করলে নামাজ ভেঙে যায়।