সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, (পূর্ববর্তী উম্মতের) এক ব্যক্তি একদিন তার ক্ষেতে কাজ করছেন। হঠাৎ তিনি মেঘের ভেতর থেকে আওয়াজ শুনলেন, কেউ যেন মেঘের ভেতর থেকে বলছে যে, অমুক লোকের জমিতে গিয়ে পানি দাও। ওই ব্যক্তি মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখে, মেঘ ভাসতে ভাসতে অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। তার কৌতুহল হলো, মেঘের থেকে আওয়াজ শুনলাম, আবার মেঘ ওই দিক চলে যাচ্ছে। তিনি নিজের জমি ফেলে মেঘের পিছে পিছে হাঁটা শুরু করলেন।কিছু দূরে গিয়ে দেখেন, মেঘের পানি বর্ষিত হলো একটা খালে। ওই খাল থেকে নালা বেয়ে পানি যাচ্ছে একটা জমির ভেতরে, পুরো পানিটা ওই জমিতে চলে যাচ্ছে।
আর ওই জমির ভেতরে একটা লোক কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কেটে চার দিক থেকে পানি আটকাচ্ছেন। আর কোনো মানুষ আশেপাশে নেই।তখন মেঘের পেছনে পেছনে আসা ব্যক্তিটি ওই লোকটির কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বললেন, ভাই আপনার নাম কি? আপনি কি অমুক? ওই যে মেঘের ভেতরে যে নাম শুনেছেন, ওই নামটা বললেন যে, আপনি কি অমুক? লোকটি বললেন, হ্যাঁ ভাই, আমি অমুক। কেন ভাই, কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?মেঘের পেছনে আসা ব্যক্তিটি বললেন, না, সমস্যা নেই। তোমাকে যেহেতু পেয়ে গেলাম, বিষয়টা খুলে বলি।
ওই দিকে ওই দূরের মাঠে আমার জমি আছে, আমি জমিতে চাষ করছিলাম, হঠাৎ মেঘের ভেতরে শব্দ শুনলাম যে, কেউ যেন বলছে অমুকের মাঠে পানি দাও। আমার কৌতুহল হলো, তাই মেঘের পিছে পিছে আসলাম, দেখলাম মেঘের পানি ওই খালের ওই জায়গায় পড়ল আর সব পানি তোমার জমিতেই আসল। আমি বুঝলাম মনে হয় তুমি ওই লোক। আচ্ছা ভাই, কিছু মনে করো না, এই যে মেঘ তোমার জমিতে পানি দিলো বিশেষ করে, আচ্ছা তুমি কী করো? কী নেক আমল করো? আমাকে কি বলা যায়?লোকটি বললেন, ভাই, তেমন তো কিছু না, তবে আমি আল্লাহর সাথে একটা চুক্তি করে রেখেছি; আমার ক্ষেতে যা ফসল হবে, আমি তিন ভাগ করে ফেলি।
এক ভাগ আমি গরিব, দুঃখী, এতিম, বিধবা, আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে দিই। আর এক ভাগ নিজে খাই এবং এক ভাগ আমি বীজ হিসেবে জমির জন্য রাখি। এই কাজটা আমি সব সময় করি।মেঘের পেছনে আসা ব্যক্তিটি বুঝতে পারলেন, এই নেক আমলের কারণেই আল্লাহ তাআলা তার জমিতে পানি বর্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা করেন। মেঘের ভেতরের আওয়াজ তাকে শুনিয়ে আল্লাহ তাআলা তাকেও বোঝাতে চেয়েছেন, এই আমল তারও করা উচিত।আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার, রিজিকে বরকত লাভ করার আমল হলো এটা। আল্লাহর দেওয়া সম্পদ অনুযায়ী দান-সদকা করা, দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য করা, অভাবীদের সাহায্য করা। আল্লাহ তাআলা যত বেশি দেন, দান-সদকাও তত বাড়ানো।
আল্লাহ যাকে যত বেশি দেন, তার পরীক্ষাও তত বেশি। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আর তিনি সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর খলিফা বানিয়েছেন এবং তোমাদের কতককে কতকের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা দান করেছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। নিশ্চয় তোমার রব দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আনআম: ১৬৫)অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যাকে যতটুকু দান করেছেন, তার পরীক্ষা বা দায়িত্ব ততটুকুর মধ্যে; যাকে কম দিয়েছেন, তার পরীক্ষা কম, যাকে বেশি দিয়েছেন তার পরীক্ষাও বেশি। তাই আল্লাহ তাআলা রিজিক যত বাড়াবেন, দান-সদকাও তত বাড়াতে হবে। তাহলে আল্লাহ তাআলা রিজিকে বরকতও বাড়িয়ে দেবেন।