গাজীপুরের শ্রীপুরে শিক্ষকের স্কেলের আঘাতে ছাত্রীর হাতের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই ছাত্রীর হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধাঙ্গুলি বেঁকে গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলার টেংরা এলাকার আলহাজ্ব নওয়াব আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বেকাশহরা গ্রামের রবিন মিয়ার মেয়ে সাদিয়া আক্তার সন্ধ্যা।
কলম ধরতে না পারা ও লিখতে না পারায় মাস খানেক যাবৎ বন্ধ রয়েছে সাদিয়া আক্তারের লেখাপড়া। চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তা অসম্ভব হওয়ায় ছাত্রীর ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
গত ৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে কৃষিশিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নাসির আহমেদের ক্লাসে বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন না করায় স্টিলের স্কেলের আঘাতে হাত ও আঙ্গুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন, বাবা রবিন মিয়া।
শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার সন্ধ্যা জানায়, ঘটনার দিন তৃতীয় ঘণ্টার ক্লাস চলছিল। এ সময় কৃষিশিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নাসির আহমেদ শ্রেণিকক্ষে এসে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। তার পরিচয়পত্রটি ভেঙে যাওয়ায় সে গলায় পরেনি। এ কারণে শিক্ষক তাকে দাঁড়াতে বলেন। দাঁড়ানোর পর স্টিলের স্কেল দিয়ে তার হাতে সজোরে আঘাত করেন। এতে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে রক্ত বের হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা।
সাদিয়ার বাবা রবিন মিয়া শ্রীপুরের একটি কাখানার শ্রমিক। তিনি বলেন, ঘটনার পর সাদিয়াকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানানো হয়, তার হাতের রক্তনালি ছিঁড়ে গেছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে হাত অবশ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। শিক্ষকেরা ঘটনার পর এক মাস হয়ে গেলেও কোনো খোঁজও নেননি বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সাদিয়ার হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বেঁকে গেছে, ধীরে ধীরে হাতসহ বাকী আঙ্গুলগুলোর শক্তি হারাচ্ছেন, হাত দিয়ে কলম ধরতে পারছে না। দ্রুত চিকিৎসা করানো না গেলে সাদিয়ার জীবন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাবে।
সাদিয়ার মা বিউটি আক্তার বলেন, এক মাস ধরে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ। অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তারা। এখন পর্যন্ত স্কুলের কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। শিক্ষকের আঘাতে মেয়ের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তার।
এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নাসির আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, ক্লাস চলাকালীন সময়ে অনাকাঙ্খিত ভাবে ছাত্রীর হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে। মারধরের কারণসহ বিস্তারিত জানতে চাইলে, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সরাসরি দেখা করার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
আলহাজ্ব নওয়াব আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিনা সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থী হাতে আঘাত পেয়েছে বলে জেনেছিলাম, তবে রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে হাত অবশ হয়ে গেছে এমনটা জানাছিল না। মেয়েটির বিষয়ে আজই পরিচালনা পর্ষদে জানাবো।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাকে বিষয়টি সম্পর্কে কেউ অবগত করেনি। ছাত্রীর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।