উৎসবের মৌসুমে অনলাইন ও অফলাইন দুই বাজারেই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যে আকর্ষণীয় ছাড় দেওয়া হয়। স্মার্টফোনের পাশাপাশি স্মার্টওয়াচ কেনারও ভালো সুযোগ তৈরি হয় এই সময়ে। হার্ট রেট মাপা, ঘুমের হিসাব রাখা, শরীরচর্চার তথ্য জানা কিংবা ফোনের নোটিফিকেশন দেখা বিভিন্ন কাজে স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন অনেকে।
কিন্তু শুধু বড় অঙ্কের ডিসকাউন্ট দেখেই ঘড়ি কিনলে পরে ঠকতে হতে পারে। তাই উৎসবের অফারে স্মার্টওয়াচ কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
অনেক সময় পণ্যের গায়ে বড় অঙ্কের ছাড়ের কথা লেখা থাকে। কিন্তু সেই ছাড়ের পরও অন্য দোকানে বা ওয়েবসাইটে একই স্মার্টওয়াচ কম দামে পাওয়া যেতে পারে। তাই কেনার আগে একাধিক বিক্রেতার দাম তুলনা করুন। সম্ভব হলে আগের দামও যাচাই করে নিন। ব্যাংক কার্ডের ছাড়, কুপন কিংবা ক্যাশব্যাকের শর্ত ভালোভাবে পড়ুন। বিজ্ঞাপনে দেখানো সর্বোচ্চ ছাড় সব ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
সব স্মার্টওয়াচ সব স্মার্টফোনের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করে না। কোনো কোনো ঘড়িতে অ্যান্ড্রয়েডের নির্দিষ্ট সংস্করণ প্রয়োজন হয়, আবার কিছু মডেলের সব ফিচার আইফোনে ব্যবহার করা যায় না। তাই কেনার আগে ঘড়িটির অপারেটিং সিস্টেম, প্রয়োজনীয় অ্যাপ এবং নিজের ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করুন। বিশেষ করে কল করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া ও থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা আপনার ফোনে কাজ করবে কি না, তা জেনে নিন।
স্মার্টওয়াচের ব্যাটারি ব্যাকআপ মডেলভেদে অনেকটাই আলাদা। কোনও ঘড়ি একবার চার্জে কয়েক দিন চলতে পারে, আবার কিছু ফিচারসমৃদ্ধ মডেলে নিয়মিত চার্জ দিতে হয়। সব সময় ডিসপ্লে চালু রাখা, জিপিএস ব্যবহার কিংবা ব্যায়ামের তথ্য রেকর্ড করার মতো ফিচার ব্যাটারি দ্রুত শেষ করতে পারে। কেনার আগে প্রস্তুতকারকের ব্যাটারি সংক্রান্ত দাবি এবং চার্জ হতে কত সময় লাগে, তা যাচাই করুন। চার্জার বা চার্জিং কেবল বাক্সে থাকছে কি না, সেটিও দেখে নিন।
হার্ট রেট, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, ঘুম কিংবা দৈনিক পদক্ষেপের হিসাব রাখার সুবিধা অনেক স্মার্টওয়াচেই থাকে। তবে সব মডেলের সেন্সর ও পরিমাপের নির্ভুলতা এক নয়। স্মার্টওয়াচের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যকে প্রাথমিক ধারণা হিসেবে নেওয়াই ভালো। চিকিৎসা বা রোগ নির্ণয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য ফিচারের প্রয়োজন থাকলে সেটি সত্যিই ঘড়িতে রয়েছে কি না এবং কীভাবে কাজ করে, তা যাচাই করুন।
স্মার্টওয়াচে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স লেখা থাকলেই সেটি সব ধরনের পানির কাজে নিরাপদ এমন নয়। কিছু মডেল ঘাম বা হালকা পানির ছিটে সামলাতে পারে, আবার কিছু মডেল নির্দিষ্ট শর্তে সাঁতারের উপযোগী। পানিতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা দেখুন। ওয়াটার রেজিস্ট্যান্সের ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনের দাবি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
উৎসবের অফারে অচেনা বিক্রেতার কাছ থেকে অস্বাভাবিক কম দামে স্মার্টওয়াচ কেনার আগে সতর্ক থাকুন। পণ্যটি নতুন, ব্যবহৃত, রিফারবিশড নাকি আমদানি করা তা স্পষ্টভাবে জেনে নিন। বাংলাদেশে কেনার ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর পরিষেবা এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ম দেখে নেওয়া জরুরি। অনলাইনে অর্ডার করলে বিক্রেতার রিভিউ, পণ্যের বিবরণ এবং রিটার্ন পলিসি যাচাই করুন। পণ্য হাতে পাওয়ার পর মডেল নম্বর, সিরিয়াল নম্বর ও বাক্সের সিল মিলিয়ে দেখুন।
শুধু দেখতে সুন্দর বলেই স্মার্টওয়াচ কেনা ঠিক নয়। ডিসপ্লে বাইরে রোদে কতটা স্পষ্ট দেখা যায়, ঘড়িটি কবজিতে আরামদায়ক কি না এবং স্ট্র্যাপ বদলানো যায় কি না এসবও গুরুত্বপূর্ণ। জিপিএস, ব্লুটুথ কলিং, এনএফসি বা শরীরচর্চার বিশেষ মোডের মতো ফিচার প্রয়োজন না হলে সেগুলোর জন্য বাড়তি খরচ না করাই ভালো। আবার যে ফিচারটি আপনার দরকার, সেটি শুধু অ্যাপের মাধ্যমে নয়, ঘড়িতেই কাজ করে কি না, তা বুঝে নিন।
স্মার্টওয়াচ সাধারণত ফোনের একটি অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, অবস্থান, ঘুম ও শরীরচর্চা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তাই কেনার আগে অ্যাপটি কোন সংস্থার, কী ধরনের অনুমতি চায় এবং তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তা দেখে নিন। অচেনা উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল না করে অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করুন। ঘড়িতে প্রয়োজন নেই এমন অনুমতি বন্ধ রাখুন।