বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের মালয়েশিয়া শাখার সাংগঠনিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র অনুসন্ধান, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ।আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান শেষে তথ্যচিত্রসহ প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।চিঠিতে মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদকে মালয়েশিয়া যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া যুবদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো, কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা মূল্যায়ন এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রকে অবহিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মো. জসিম উদ্দিনকে সভাপতি ও মো. রমজান আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল মালয়েশিয়া শাখার ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে জসিম উদ্দিনকে সভাপতি, রমজান আলীকে সাধারণ সম্পাদক এবং মো. সুলতান বিন সিরাজকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সংগঠনকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে মো. নূর সিদ্দিকী সুমনকে।
সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ মোহাম্মাদ সেলিম, নাজমুল হাসান, খালিদ হাসান রিপন, হেলাল উদ্দিন হাই, কে এম সবুজ, মো. শাহীন আলম, ইউসুফ মজুমদার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. বোরহান উদ্দিন (তালেব মেলা), মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, নাছির উদ্দিন মোল্লা, মো. কামরুজ্জামান শান্ত, তোরাবক হোসেন রানা, এআর মাসুদ, আক্তার হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, জালাল শেখ, মো. মিজানুর রহমান বেপারী ও আব্দুল হাকিম।কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মো. রমজান আলী এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সুলতান বিন সিরাজ। এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।এদিকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।নতুন দায়িত্বের আওতায় মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন মালয়েশিয়া যুবদলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিস্তারিত ধারণা দিতে পারে। তবে অনুসন্ধানের ফলাফল ও পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।