প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য পুরো ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এর প্রধান কারণ, ডিমের কুসুমে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। ডিম খেলেও দিনে একটির বেশি খাওয়া উচিত নয় বলে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই নির্দেশনা কিছুটা পুরোনো এবং এতে প্রয়োজনীয় কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পুরো ডিম সবার জন্য আদর্শ না হলেও, ডিমের কুসুম সব সময় হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।
বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল কমানোই এখন আর প্রধান লক্ষ্য নয়। একইভাবে, খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের চর্বি বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করাও ঠিক নয়। তাহলে হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতার জন্য কতটি ডিম এবং কোন ধরনের ডিম খাওয়া উচিত? এ বিষয়ে পুরো ডিম ও শুধু ডিমের সাদা অংশের তুলনা করেছেন একজন পুষ্টিবিদ। পাশাপাশি, কার জন্য কোনটি ভালো, তা-ও জানিয়েছেন তিনি।
বেশির ভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য পুরো ডিম স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। ২০২৫ সালের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুটি পর্যন্ত ডিম খাওয়া নিরাপদ হতে পারে, যদি খাদ্যতালিকায় সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম থাকে।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও পুষ্টিবিদ জোয়ান সালগে ব্লেকের মতে, প্রতিদিন একটি বা দুটি ডিম খেলে স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। ডিমে সম্পৃক্ত চর্বিও কম থাকে, যা রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ানোর অন্যতম কারণ।
৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ডিম খাওয়া ব্যক্তিদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। তবে এটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা হওয়ায় ডিম খাওয়ার কারণেই ঝুঁকি কমেছে, তা নিশ্চিত নয়।
ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি ও কোলিনও উপকারী। পুষ্টিবিদ ব্লেকের মতে, অনেকের খাদ্যতালিকায় এই দুটি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে।
ডিমের সাদা অংশে প্রচুর প্রোটিন থাকলেও এতে প্রায় কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। তাই কম ক্যালরি ও চর্বি গ্রহণ করে প্রোটিন বাড়াতে চাইলে এটি ভালো বিকল্প।
পুষ্টিবিদ জোয়ান সালগে ব্লেকের মতে, একটি পুরো ডিমের বদলে দুটি ডিমের সাদা অংশ খেলে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে কুসুম বাদ দিলে ভিটামিন ডি ও কোলিনও পাওয়া যায় না।
গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কুসুমের বদলে বিকল্প খাবার খেলে উপকার হতে পারে। একটি পরীক্ষায় ছয় সপ্তাহ ধরে কুসুম ছাড়া ডিমের বিকল্প খাওয়া ব্যক্তিদের এলডিএল কোলেস্টেরল কমেছে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত হয়েছে।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য পুরো ডিম নাকি শুধু সাদা অংশ ভালো, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। যাদের রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগ আছে, তাদের জন্য ডিমের সাদা অংশ ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পুরো ডিম বেশি পুষ্টিকর, কারণ কুসুমে ভিটামিন ডি ও কোলিন থাকে।
ব্লেকের মতে, নির্দিষ্ট খাবার বাদ দেওয়ার চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ফলমূল, শাকসবজি, শিমজাতীয় খাবার, বাদাম, বীজ, সয়া জাতীয় খাবার ও সামুদ্রিক খাবারসহ কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
সূত্র: রিয়েল সিম্পল