দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত ১২৪এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। লিখিত আদেশে রিট খারিজের কারণ ব্যাখ্যা করে আদালত বলেন, ১২৪এ ধারার কারণে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আবেদনে নেই। একইভাবে, এই ধারা প্রয়োগ করে সরকার কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী ব্যবস্থা নিয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তুলে ধরা হয়নি। এ কারণে আবেদনটির কোনো সারবত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোনো খরচের আদেশ ছাড়াই রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হলো। রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ১৮৭০ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে দণ্ডবিধিতে ১২৪এ ধারা সংযোজন করা হয় এবং বিধানটি এখনও বহাল রয়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে আদালত বলেন, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও স্বীকৃত, তবে এসব অধিকারের ক্ষেত্রে সংবিধানে উল্লিখিত স্বার্থে আইন দ্বারা যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।
আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত ধারাটির ব্যাখ্যাগুলোও পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে তৃতীয় ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ তুলে রায়ে বলা হয়, সরকারের প্রশাসনিক বা অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রতি অসম্মতি প্রকাশকারী মন্তব্য ঘৃণা, অবজ্ঞা বা অসন্তোষ উসকে না দিলে কিংবা উসকে দেওয়ার চেষ্টা না করলে তা এই ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ আগস্ট এ রায় দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিটটি করেন। তিনি নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুসসহ অন্য আইন কর্মকর্তারা। রিটে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে পঠিত দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারাকে অসাংবিধানিক ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণার আবেদন জানানো হয়।
আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণকারী এই বিধান সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিটকারী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবো।