স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে নির্বাচন কমিশনারকে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বন্ধ রাখার দাবি জানায় দলটি। ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিমালায় পরিবর্তন আনার দাবিও জানায় দলটি।
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, একজন নাগরিক দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থান করলেও তার নাগরিকত্ব ও নিজ এলাকার সঙ্গে তার সামাজিক ও নাগরিক সম্পর্ক বহাল থাকে। বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রতি আস্থাশীল। একই সঙ্গে আশা করি নির্বাচন কমিশন প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব আইনগত প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখিত ১০ দফা দাবি গুলো হলো :
১. আসন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য ও নিবন্ধিত বাংলাদেশি ভোটারদের ভোটারাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত ও প্রস্তাবিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৩. প্রবাসী ভোটারদের এনআইডি ও ভোটার তথ্য যাচাই করে তাদের বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটার এলাকা, ওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।
৪. অনলাইন নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই, ব্যালট প্রেরণ, ব্যালট ফেরত গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনার ক্ষেত্রে নিরাপদ, স্বচ্ছ, নিরীক্ষা যোগ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
৫. একই ভোটার যাতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি দেশে উপস্থিত হয়ে পুনরায় ভোট দিতে না পারেন, সেজন্য কার্যকর দ্বৈত ভোট প্রতিবাদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. যেসব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে প্রবাসী ভোটারের পোস্টাল ভোটের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান নেই, সেসব আইন ও বিধিমালা দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
৭. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটরের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নাগরিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সময়সীমা ভিত্তিক রোড প্রকাশ করতে হবে।
৯. প্রয়োজন হলে সীমিত সংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রবাসী পোস্টার ভোটিং চালু করে তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
১০. প্রবাসী ভোটার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের অনিশ্চয়তা দূর করে যথাশীঘ্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
https://slotbet.online/