• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ বিরোধী নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি রিপন আনসারী সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলা—গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি হতে চান মাসুদ রানা পল্লবীতে শিশু হত্যা • মামলার অগ্রগতি জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বাবার সাক্ষাৎ ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ক্ষেত্রেই বিএনপি সাফল্য দেখাতে পারছে না’ প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম ভেঙে সোনারগাঁওয়ে ৪ বছর ধরে একই কর্মস্থলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীরবতা সিকৃবিতে র‍্যাগিংয়ের নামে জুনিয়রদের ওপর হামলা- মারধর, আহত অন্তত ৬ প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ঘুম কি যথেষ্ট? অপটিমাস রোবট উৎপাদনে বড় চ্যালেঞ্জে টেসলা মায়ের জন্য আকুতি তাসনুভা তিশার

তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলা—গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি হতে চান মাসুদ রানা

স্টাফ রিপোর্টার / ৮ টাইম:
আপডেট: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজনীতির পথ কখনো মসৃণ নয়। কখনো রাজপথের উত্তাপ, কখনো মামলা—হামলার চাপ, কখনো কারাবরণের কঠিন সময়—সবকিছুর মধ্য দিয়েই একজন রাজনৈতিক কর্মীর পথচলা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের সেই পথচলায় যারা সংগঠনের সঙ্গে থেকেছেন, তাদের কাছে রাজনীতি শুধু পদ—পদবি নয়; বরং এটি হয়ে ওঠে বিশ্বাস, আদর্শ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের এক দীর্ঘ অধ্যায়।গাজীপুরের কালীগঞ্জের সন্তান মোঃ মাসুদ রানা তেমনই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার একজন নেতা হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিস্তার ঘটেছে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদল, গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।মোঃ মাসুদ রানার পিতা মৃত জিন্নত আলী এবং মাতা মৃত সামেদা শিরীন। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর সোম গ্রামের এই সন্তান বি.এ (স্নাতক) সম্পন্ন করেছেন।

যে পথচলা শুরু হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি দিয়ে

রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৯১ সালে তুমলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা আরও দৃশ্যমান হয় বলে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।এরপর একে একে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই সঙ্গে গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।জেলা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ১ম যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।ছাত্ররাজনীতির সেই সময় থেকেই সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশ হয়ে ওঠে বলে তাঁর দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।

ছাত্রদল থেকে যুবদলের নেতৃত্বে

সময় গড়িয়েছে। ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মোঃ মাসুদ রানা যুক্ত হন যুবদলের রাজনীতিতে। কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।একই সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়। উপজেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে ধীরে ধীরে জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান তৈরি হয়।পরবর্তীতে তিনি গাজীপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সদ্য বিদায়ী এই দায়িত্বের পর এবার জেলা যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।তাঁর রাজনৈতিক পথচলার দিকে তাকালে দেখা যায়, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

মামলা—কারাবরণও এসেছে রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে

রাজনৈতিক জীবনের পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার কথাও তুলে ধরেছেন মোঃ মাসুদ রানা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা হয়েছে এবং তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন।তবে এসব মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, আদালতের সিদ্ধান্ত কিংবা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা তাঁর দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে মামলাগুলোকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বর্ণিত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে এসব মামলা ও কারাবরণ রাজনৈতিক পথচলার কঠিন সময়ের স্মৃতি। আর তাঁর নিজের বক্তব্যে দল ও সংগঠনের প্রতি দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততাই সামনে এসেছে।রাজনীতি শুধু পদ নয়, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন—মাসুদ রানার বক্তব্য রাজনৈতিক সংগঠনে পদ—পদবি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তৃণমূলের কর্মীদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ—এমন মত পোষণ করেন মোঃ মাসুদ রানা।গাজীপুর জেলা যুবদলকে গতিশীল করার বিষয়ে তাঁর মতামতের মূলকথা হলো—“ত্যাগী, দলনিবেদিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দলের মাধ্যমে মূল্যায়ন।”এই বক্তব্যের মধ্যেই তাঁর সাংগঠনিক ভাবনার একটি দিক ফুটে ওঠে। তাঁর মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।কারণ মাঠের কর্মীরাই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের মূল শক্তি। তাদের মূল্যায়ন ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তৃণমূলকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা

গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।দীর্ঘদিনের ছাত্র ও যুব রাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেলা পর্যায়ের সংগঠনকে আরও গতিশীল করার কথা বলছেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত করা এবং পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চান।তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম জায়গা হলো—শুধু কেন্দ্র বা জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব নয়, সংগঠনের প্রতিটি ইউনিটে সক্রিয় নেতৃত্ব তৈরি করা।

কালীগঞ্জ থেকে গাজীপুর জেলা—এক দীর্ঘ অধ্যায়

মোঃ মাসুদ রানার রাজনৈতিক পরিচিতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে কালীগঞ্জ। স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ের ছাত্রদল থেকে উপজেলা ছাত্রদল, এরপর উপজেলা যুবদল—প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করে তিনি জেলা রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দায়িত্বের তালিকায় রয়েছে—সভাপতি—তুমলিয়া ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল, ১৯৯১।সাধারণ সম্পাদক—কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল।যুগ্ম সম্পাদক—কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল।আহ্বায়ক—কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল।সভাপতি—কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল।আহ্বায়ক—কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদল।সভাপতি—কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদল।সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক—গাজীপুর জেলা ছাত্রদল।

১ম যুগ্ম সম্পাদক—গাজীপুর জেলা ছাত্রদল।সদস্য—গাজীপুর জেলা ছাত্রদল।সাধারণ সম্পাদক—গাজীপুর জেলা যুবদল।এছাড়া কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং সোমবাজার জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।

সামনে নতুন দায়িত্বের প্রত্যাশা

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর এবার তাঁর লক্ষ্য গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি পদ। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগকে সামনে রেখে তিনি এই দায়িত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত বলে মনে করছেন।তবে যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ মাসুদ রানাও নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকা তুলে ধরে সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

রাজনীতির কাছে তাঁর প্রত্যাশা

মোঃ মাসুদ রানার রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন। তাঁর বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়বে এবং নতুন কর্মীরাও রাজনীতিতে উৎসাহিত হবে।

ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব—এই দীর্ঘ সময়কে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।তাঁর সামনে এখন নতুন দায়িত্বের প্রত্যাশা। গাজীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি পদে তাঁর প্রার্থিতা তাই শুধু একটি পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়; বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর সংগঠনের নেতৃত্বে নতুনভাবে ভূমিকা রাখার একটি প্রত্যাশা হিসেবেই তিনি বিষয়টিকে দেখছেন।মোঃ মাসুদ রানার ভাষায়, ত্যাগী, দলনিবেদিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী, সক্রিয় ও গতিশীল যুবদল গড়ে তোলা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
26 September 2026

মায়ের জন্য আকুতি তাসনুভা তিশার

www.hostbuybd.com
https://slotbet.online/
26 September 2026

মায়ের জন্য আকুতি তাসনুভা তিশার

www.hostbuybd.com