• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
গাজীপুরে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি গাজীপুরে ২ লাখ টাকার ফাইবার ক্যাবল চুরি, গ্রেপ্তার ৩; মিলল সিন্ডিকেটের তথ্য জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে রংপুরে জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ শিশু তুহিন হত্যা: ৬ বছরেও কার্যকর হয়নি বাবা-চাচার মৃত্যুদণ্ড, বিচার শেষের অপেক্ষায় মা বারবার ব্যর্থতায় নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি কেন? বাংলাদেশের প্রথম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ট্রেডট্রাস্ট-রেডি পার্টনার’ স্বীকৃতি পেল এসএসসিএল নামাজের মধ্যে মশার রক্ত গায়ে লেগে গেলে করণীয় কী? লভ্যাংশ বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর বিএসইসি, শর্ত পূরণ ছাড়া এজিএমে প্রস্তাব নয় অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে ১২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা রাজধানীর মন্দিরে প্রতিমার সোনার গহনা চুরি, দম্পতিসহ গ্রেফতার ৪

শিশু তুহিন হত্যা: ৬ বছরেও কার্যকর হয়নি বাবা-চাচার মৃত্যুদণ্ড, বিচার শেষের অপেক্ষায় মা

প্রবাস পোস্ট ডেস্ক / ৫ টাইম:
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

বাবার পাশে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিল ৫ বছরের শিশু তুহিন মিয়া। কে জানত এটাই তার জীবনের শেষ ঘুম, বাবার হাতেই প্রাণ যাবে তার। মধ্যরাতে ছেলে তুহিনকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান বাবা আব্দুল বাছির। এরপর নিজের ভাই নাছির ও ভাইপো শাহরিয়ারের সঙ্গে মিলে ছেলে তুহিনকে জবাই করেন বাছির। জবাই করেই থেমে থাকেননি, হত্যার পর তুহিনের কান ও লিঙ্গ কেটে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর দু’টি ছুরিতে গ্রামের প্রতিপক্ষের দুইজনের নাম লিখে তুহিনের পেটে গেঁথে দেন।

পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রতিপক্ষ সালাতুল মিয়া ও সুলেমান মিয়াকে ফাঁসাতে ২০১৯ সালের আজকের এই দিনে (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজের পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামের আবদুল বাছির। এই অপরাধে তার সঙ্গী ছিল তার ভাই ও ভাতিজা।

শিশু তুহিন মিয়া হত্যা মামলায় ৫ মাসের মাথায় বাবা আব্দুল বাছির (৪৭) ও চাচা নাছির উদ্দিনকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। অপর দুই আসামি চাচা আব্দুল মোছাব্বির (৫২) ও জমশেদ আলীকে (৬৭) বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন।

২০২০ সালের ১৬ মার্চ সোমবার সুনামগঞ্জের তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করা হয়। এরপর পার হয়েছে ৬ বছর। আজও আদালতের রায় বাস্তবায়ন হয়নি। নিম্ন আদালতে দেওয়া সেই মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো ঝুঁলে আছে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল বাছির ও তার ভাই নাছির উদ্দিন কারাগারে আছেন।

সুনামগঞ্জ শিশু আদালতের তৎকালীন পিপি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, আলোচিত শিশু তুহিন মামলায় দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টের আপিল বিভাগেই রয়েছে। সেখান থেকে এখনো রায় হয়নি। তুহিনের মায়ের সঙ্গেও আমার দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ নেই। নিম্ন আদালতের রায়ই এখনো বহাল রয়েছে।

শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম বলেন, ঘটনার সাত বছর হয়ে গেল, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ঘটনাটা যেন সেদিনের। ওই রাতে আমার ছেলে তার বাবার পাশে ঘুমিয়েছিল। সকালে তার ক্ষতি-বিক্ষত লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলতে দেখি। মা হিসেবে ওই দৃশ্য আমি সারাজীবনেও ভুলতে পারব না। তুহিন কারো শত্রু ছিল না, সে ছিল ছোট্ট শিশু। তাকে কেন এভাবে মেরে ফেলতে হলো, তুহিনের কষ্ট সারাজীবন বয়ে বেড়াব।’

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের আদালত রায় দিয়েছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। কিন্তু এত বছর পরও সেই সাজা কার্যকর হয়নি। আমি চাই, আইনের নিয়ম মেনে দ্রুত এই মামলার শেষ হোক। আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না, কিন্তু তার হত্যার বিচারটা যেন শেষ পর্যন্ত দেখতে পারি এটাই আমার চাওয়া।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের গত ১৩ অক্টোবর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল শিশু তুহিন মিয়াকে। ১৪ অক্টোবর সোমবার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তুহিনের পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ধারালো ছুরি। এ ঘটনার পরদিন ১৪ অক্টোবর দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার মা মনিরা বেগম।

মনিরা বেগমের দায়ের করা মামলার এক দিন পরই ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, তিন চাচা আবদুল মছব্বির, জমসেদ আলী ও নাসির মিয়া এবং চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। ওই দিনই আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তুহিনের চাচা নাসির মিয়া ও চাচাতো ভাই মো. শাহরিয়ার।

এরপর চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর শিশু তুহিন মিয়া হত্যার ঘটনায় পুলিশ তুহিনের বাবা, তিন চাচা ও এক চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল এবং ২০২০ সালের ১৬ মার্চ সুনামগঞ্জের তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার শিশু তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির ও চাচা নাছির উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ওই সময়ে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেছিলেন, গ্রামের একটি পক্ষের সঙ্গে ২০০০ সাল থেকে আবদুল বাছিরের পরিবারের বিরোধ আছে। হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। ২০০২ সালে গ্রামে মুজিব নামে এক ব্যক্তি খুন হন। ওই মামলায় শিশু তুহিনের বাবা আবদুল বাছির আসামি। আবার ২০১৫ সালে নিলুফা বেগম নামের এক নারী খুন হন। তিনি বাছিরের ভাতিজার স্ত্রী। এই হত্যা মামলায় বাছিরের প্রতিপক্ষের লোকজন আসামি। আবদুল বাছির ধারণা করেছিলেন, তিনি মুজিব হত্যা মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন। তাই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিন হত্যার পরিকল্পনা করেন। তুহিনের পিঠে বিদ্ধ থাকা দুটি ছুরির হাতলে বাছিরদের প্রতিপক্ষের দুই ব্যক্তি সালাতুল ও সুলেমানের নাম লেখা ছিল। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ছুরির হাতলেও দুটি নাম তুহিনের চাচা নাসির উদ্দিনই লিখেছিলেন। আসামিদের উদ্দেশ্য ছিল জনমত তাদের পক্ষে নেওয়া। মানুষ যাতে এই নৃশংসতা দেখে প্রতিপক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এ কারণেই তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

Share this news as a Photo Card


আরো নিউজ

শিশু তুহিন হত্যা: ৬ বছরেও কার্যকর হয়নি বাবা-চাচার মৃত্যুদণ্ড, বিচার শেষের অপেক্ষায় মা

13 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com

শিশু তুহিন হত্যা: ৬ বছরেও কার্যকর হয়নি বাবা-চাচার মৃত্যুদণ্ড, বিচার শেষের অপেক্ষায় মা

13 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com