রাজধানীর দুটি মন্দিরে প্রতিমার সোনার গহনা চুরির ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এই দম্পতি বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে প্রতিমার গায়ে থাকা সোনার গহনা চুরি করতেন। তারপর সেগুলো বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন।
সম্প্রতি এই দম্পতিকে রাজধানীর রমনা মন্দিরের কালী প্রতিমার জিহ্বায় থাকা সোনার গহনা চুরির ঘটনায় শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির ও নারায়ণগঞ্জের লোকনাথ আশ্রমের সোনা চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত রমনা কালীমন্দিরে সোনা চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
গ্রেফতার ওই দম্পতির নাম- লিপি কর্মকার (২৯) ও অর্ণব রায় দ্বীপ্ত (৩০)।
এছাড়া বাকি দুইজন হলেন- চুরি হওয়া সোনা কেনা দোকানি মো. মুহিন (৩৭) ও সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের চুরির সোনা কেনা দোকানি জাকারিয়া ইসলাম।
মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত ৭ অক্টোবর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শাহবাগ থানাধীন রমনা কালী মন্দিরে কালীর বিগ্রহের জিহ্বায় রাখা সোনার গহনা চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া সোনার ওজন প্রায় ছয় আনা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ।
পরে রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানাধীন ডোবাদিয়া এলাকা থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায় ওরফে দীপ্তকে আটক করা হয়।
মো. ফারুক বলেন, লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায় ওরফে দীপ্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহবাগ থানা-পুলিশ দক্ষিণখান থানাধীন সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মোহাম্মদ মুহিনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে দুই আনা এক রতি চার পয়েন্ট স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রমনা থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। রমনা কালী মন্দিরের চুরির ঘটনায় গ্রেফতার অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের চুরির ঘটনায়ও তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম জাকারিয়া ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার সোনার চেইন চুরি করে পালানোর সময় একজন পুরোহিতের হাতে ধরা পড়েন এই দম্পতি। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেন।
চুরি করা এই দম্পতির পেশা কি না জানতে চাইলে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা গ্রেফতার হওয়া এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনটি ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি। তাদের পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই বিষয়ে জানা যাবে।