আফগানিস্তান প্রিমিয়ার (এপিএল) লিগের প্লেয়ার্স ড্রাফটে যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। আগামীকাল (৩ নভেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই প্লেয়ার্স ড্রাফট। চলতি বছরের শেষদিকে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে এই লিগ।
৩৪ বছর বয়সী আমির বর্তমানে ইংল্যান্ডের বসবাস করছেন এবং পেয়েছেন সে দেশের নাগরিকত্বও। এপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটে যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে নাম দিয়েছেন তিনি। যদিও তার বসবাসের দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে পাকিস্তান। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে তাকে
নাগরিকত্ব পরিবর্তন হওয়ায় এখন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে আইপিএলে খেলারও। যুক্তরাজ্যের খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলের নিলামেও নাম দেবেন তিনি এমনটাই ভাবা হচ্ছে। ভারতের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের খেলা নিষিদ্ধ হলেও ব্রিটিশ নাগরিকত্বের কারণে ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত লিগটিতে কিং ইলেভেন পাঞ্জাব ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আজহার মাহমুদ।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আইপিএলের পরবর্তী আসরের নিলাম। সেখানে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আমিরের প্রতি আগ্রহ দেখায় কি না, তা জানা যাবে।
পাকিস্তানের হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে ও ৬২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আমির। ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের লডারহিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের ফলে আমিরের জন্য একটি সুবিধা তৈরি হতে পারে। এপিএলে খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনাপত্তিপত্র বা এনওসি প্রয়োজন নাও হতে পারে তার। তবে পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এনওসি পাওয়া নিশ্চিত নয়। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে পিসিবি ইতিমধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটারের এনওসির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিজয় শঙ্কর, আয়ান খান ও মুরুগান অশ্বিন ভারতীয় হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। অন্যদিকে কে এস ভারতকে দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে। বিজয়, মুরুগান ও ভারত রয়েছেন গোল্ড ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে ড্রাফটের জন্য বাছাই করা হয়েছে ৪৬২ জন ক্রিকেটারকে।
পাঁচ দল নিয়ে আয়োজন করা হবে এপিএল। প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ ১৮ জন ক্রিকেটার রাখা যাবে। এর মধ্যে ১১ থেকে ১২ জন থাকবেন আফগানিস্তানের এবং ৬ থেকে ৭ জন বিদেশি ক্রিকেটার।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ১ লাখ, ডায়মন্ডে ৬৫ হাজার, গোল্ডে ৪০ হাজার, সিলভারে ২০ হাজার এবং ইমার্জিং ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতিটি দলের খেলোয়াড় কেনার বাজেট থাকবে ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে।