রাতে হালকা কিছু খেতে ইচ্ছে করলে কিংবা শিশুকে সহজে খাওয়ানোর জন্য অনেক পরিবারেই দুধ-রুটি বেছে নেওয়া হয়। গরম দুধে রুটি ভিজিয়ে নরম করে খাওয়ার এই অভ্যাস বহুদিনের। কেউ একে সহজপাচ্য খাবার মনে করেন, আবার কেউ রাতে দুধ-রুটি খেলে ওজন বাড়ে বা হজমের সমস্যা হয় বলে ধারণা করেন।
কিন্তু দুধ-রুটি কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী? নাকি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই খাবার অস্বস্তির কারণ হতে পারে? উত্তর নির্ভর করে খাবারের পরিমাণ, উপকরণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
আটার রুটিতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের কিছু উপাদান। অন্যদিকে দুধ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। ভিটামিন ডি-যুক্ত দুধ হলে তা এই ভিটামিনেরও উৎস হতে পারে। ফলে পরিমিত পরিমাণে দুধ ও রুটি খেলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পাওয়া যায়।
তবে রুটির ধরন, দুধের পরিমাণ ও চর্বির মাত্রা এবং সঙ্গে চিনি বা গুড় মেশানো হচ্ছে কি না-এসবের ওপর খাবারটির মোট ক্যালরি ও পুষ্টিমান নির্ভর করে।
গরম দুধে রুটি ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হয়ে যায়। ফলে যাদের শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয়, তাদের জন্য এটি খাওয়া সহজ হতে পারে। অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময়ও কেউ কেউ এই খাবার বেছে নেন। তবে নরম হলেই খাবারটি সবার জন্য সহজপাচ্য হয়ে যায়, এমন নয়। ব্যক্তির হজমক্ষমতা ও শারীরিক অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
দুধ-রুটি খেলে পেটের অ্যাসিড কমে যায় বা পেট ঠান্ডা থাকে-এমন ধারণারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাতে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
দুধে ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারণে ঘুমের প্রসঙ্গে দুধের কথা প্রায়ই উঠে আসে। তবে শুধু রাতে দুধ-রুটি খেলেই ঘুম ভালো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রাতে ক্ষুধা লাগলে পরিমিত দুধ-রুটি খাওয়া যেতে পারে।
তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের দুধ খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে ল্যাকটোজমুক্ত দুধ বেছে নেওয়া যেতে পারে। দুধে অ্যালার্জি থাকলে সাধারণ দুধ এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আবার গমে অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগ থাকলে সাধারণ গমের রুটি খাওয়া উপযুক্ত নয়। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদেরও রুটির পরিমাণ এবং দুধে যোগ করা চিনি বা গুড়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
অতিরিক্ত চিনি ছাড়া পরিমিত পরিমাণে খেলে খাবারটির অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি কমানো যায়।
দুধ-রুটি নিজে থেকেই ওজন বাড়ায় না। দিনের মোট ক্যালরি গ্রহণ শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে দীর্ঘমেয়াদে ওজন বাড়তে পারে। বড় আকারের একাধিক রুটি, বেশি চর্বিযুক্ত দুধ এবং অতিরিক্ত চিনি বা গুড় যোগ করলে খাবারটির ক্যালরি বেড়ে যায়। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আটার রুটি ও পরিমিত দুধ দিয়ে সহজেই এই খাবার তৈরি করা যায়। অতিরিক্ত চিনি বা গুড় না দেওয়াই ভালো। যাদের দুধে সমস্যা হয়, তারা উপযুক্ত বিকল্প বেছে নিতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী খাবারের ঘনত্ব ও উপকরণ নির্বাচন করতে হবে।
দুধ ও রুটি দুটিই পুষ্টিকর খাবার হতে পারে।
তবে সবার জন্য একই পরিমাণ বা একই সময়ে খাওয়া উপযোগী নয়। নিজের হজমক্ষমতা, শারীরিক অবস্থা এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় রেখেই দুধ-রুটি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথলাইন