অনেকে মনে করেন, সকালেই গোসল করা ভালো। আবার কারো পছন্দ রাতে গোসল করা। এ নিয়ে মতভেদ থাকলেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত গোসল করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনার ত্বকের ধরন, দৈনন্দিন কাজ ও ব্যায়ামের সময়ের ওপর নির্ভর করে গোসলের উপযুক্ত সময় ভিন্ন হতে পারে।
এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ইটারনাল ডার্মাটোলজি অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিকিৎসক ইফে জে. রডনি বলেন, নিয়মিত গোসল করাই মূল বিষয়। মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক গ্যারি গোল্ডেনবার্গও মনে করেন, গোসলের ভালো সময় নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।
সকালে গোসল করলে ঘুমের জড়তা কাটতে পারে। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় শরীরে জমে থাকা ঘাম, ব্যাকটেরিয়া, মৃত কোষ ও তেল পরিষ্কার হয়। বিশেষ করে যারা রাতে বেশি ঘামেন, তাদের জন্য সকালে গোসল করা উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, রাতে গোসল করলে সারাদিনের ধুলাবালু, ঘাম, দূষিত পদার্থ, সানস্ক্রিন ও অন্যান্য ময়লা শরীর থেকে পরিষ্কার করা যায়।
তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের অনেকে রাতে গোসল করার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রিমিয়ার হেলথ অ্যাসোসিয়েটসের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিন্ডি ওয়াসেফ বলেন, ‘সারাদিনে শরীরে জমে থাকা ময়লা, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধুয়ে ফেলতে সন্ধ্যায় গোসল করা ভালো। অনেকেই সপ্তাহে একবারের বেশি বিছানার চাদর বদলান না। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করলে চাদরও তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে।’
চিকিৎসক রডনিও রাতে গোসলের পক্ষে। গোসলের পর ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি। সকালে তাড়াহুড়া থাকলে অনেকে তা ঠিকমতো করতে পারেন না। রাতে হাতে বেশি সময় থাকায় পুরো শরীরে ময়েশ্চারাইজার লাগানো সহজ হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে গোসলের সময় নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে পারেন।
সকাল না রাতে গোসল করছেন, তার চেয়ে কীভাবে গোসল করছেন, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক গোল্ডেনবার্গের মতে, পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে কুসুম গরম পানিতে গোসল করা উচিত। গোসলের পরপরই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি।
তবে সকাল বা রাতের চেয়ে ব্যায়ামের পর গোসল করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ওয়াসেফ বলেন, ‘ঘামের কারণে ব্রণ ও চুলের গোড়ায় প্রদাহ হতে পারে। ব্যায়ামের পরপর গোসল করলে ত্বকের সমস্যা ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কারণ, ব্যায়ামাগারের সরঞ্জাম থেকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া, দাদ ও হারপিসের মতো সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
ত্বক তৈলাক্ত হলে সকালে গোসল উপকারী হতে পারে। এতে রাতে জমে থাকা তেল ও ঘাম দূর হয় এবং ব্রণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে রাতের গোসলেও দিনের বেলা ত্বকে জমা ময়লা, তেল ও দূষিত পদার্থ পরিষ্কার হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক বেশি তৈলাক্ত হলে দিনে দুবার গোসল করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।’
সকাল বা রাতে, যখনই গোসল করুন, কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি। চিকিৎসক ওয়াসেফের মতে, ১০ মিনিটের কম সময়ে গোসল শেষ করা ভালো। সুগন্ধিযুক্ত সাবান ও গোসলের জেল ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে, তাই সুগন্ধিবিহীন পণ্য ব্যবহার করুন। খুব গরম পানির বদলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন।
গোসলের সময় লুফা ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জমতে পারে এবং ত্বকে জ্বালা হতে পারে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে শরীর জোরে ঘষে না মুছে আলতো করে পানি শুষে নিন। চিকিৎসক ওয়াসেফের মতে, শরীর মোছার পর প্রথম দুই মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
মূলত গোসলের উপযুক্ত সময় নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর। তবে ত্বকের ধরন, দৈনন্দিন কাজ ও ব্যায়ামের সময় বিবেচনায় রাখলে নিজের জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়া সহজ হবে।
সূত্র: সেল্ফ