চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা। তারা সালমানের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ঘটনার পর এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক পোস্টে প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘দেশে কি কোনো সরকার আছে? চাঁদা না দেওয়ায় ইসিবিতে জনাব সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা।’
এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সালমানের স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সালমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে পরিবর্তনের অর্থ কী।
এনসিপির মহিউদ্দিন রনি লিখেছেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের তাণ্ডব দেখেছেন। সালমান মানসিকভাবে শক্ত। এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পাশে দাঁড়াতে পারলে নিজের ভেতরেও শক্তি অনুভব করবেন।
এদিকে হামলার পর প্রকাশিত এক ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির জানান, হামলায় তার পুরো স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, স্টুডিওতে এমন কিছু সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা ছিল, যা বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে বিরল।
সালমান আরও বলেন, কেউ যদি কোনো পক্ষের তোষামোদ না করে, রাজনৈতিক দলের অনুসরণ না করে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না রাখে, তাহলে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামলায় স্টুডিওর সিসিটিভি ক্যামেরা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সালমান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ইসিবি এলাকায় জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে একটি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
https://slotbet.online/