আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের একজন আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন জিয়াউল আহসানের বোন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজনীন নাহার।আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যও নেওয়া হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগে তিনটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৪ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ জাতীয় টেলিযোগাযোগ নজরদারি সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর এক আদেশে ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জেল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর ওই আদেশের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক ‘৯বিআর চেম্বার্স’-এর আইনজীবী স্টিভেন কে কেসিকে জিয়াউল আহসানের পক্ষে নিয়োগের আবেদন করা হয়। গত ২২ জানুয়ারি জেল কর্তৃপক্ষ আবেদনটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পাঠায়।
তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বার কাউন্সিল থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আবারও ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন জিয়াউল আহসান। আবেদনে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি বার কাউন্সিলকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন।
https://slotbet.online/