টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের গল্লী বড়বাড়ি এলাকায় জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের গড়িয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম আদালত, দেওয়ানি আদালত ও থানা পর্যন্ত। একাধিকবার জমি পরিমাপ, স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক এবং মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী মো. সিরাজুল ইসলাম লাবুর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের পরিবারের মালিকানাধীন। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী মূল দখলদারি আরিফ খান ও কাইয়ুম খান খোকা এবং তার স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির একটি অংশ দখলে রেখেছেন। জমি বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের বাড়িতে পালিত গরুর মলমূত্রের বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা তার পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সিরাজুল ইসলাম লাবু।
এতে পুকুরের মাছের পোনা মারা গেছে বলে দাবি তার। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিক আদালত খান। তাদের অভিযোগ, আরিফ খান ও কাইয়ুম খান দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি আরও জানান বানাইল ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি ইমরান খান ঈমান আলী তাদের মেয়ের জামাই এর উস্কানিতে প্রভাব দেখিয়ে এব্যাপারে তারা বিভিন্ন দিক থেকে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও মীমাংসার মাধ্যমে আদালত খান ও তার পরিবারের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিভিন্ন নথিপত্রে একাধিক উদ্যোগের তথ্য পাওয়া গেছে। বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের একটি নোটিশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উপস্থিত রেখে বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে পরিমাপের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের পরিমাপ প্রতিবেদনে ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি মাপজোকের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিমাপ প্রতিবেদনে দুই পক্ষের জমির সীমানায় অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সেখানে ৮ ফুট ও ১৪ ফুট জায়গার হিসাবের পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ একটি স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে পরিমাপের পরও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নথিপত্রে আরও দেখা যায়, খতিয়ান নম্বর ২৬৬-এ মো. সুলতান আলী খানের নামে ১২৬ শতক জমির তথ্য রয়েছে। একই নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদও রয়েছে বলে জানা গেছে। জমি নিয়ে বিরোধটি স্থানীয় সালিশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের নথিতে মোকদ্দমা নম্বর ০৫/২০২৫-এর উল্লেখ রয়েছে। গ্রাম আদালতে কার্যক্রম পরিচালনার পর ৮ মে ২০২৫ তারিখে মামলাটি মির্জাপুরের সহকারী জজ আদালতে পাঠানোর নথিও পাওয়া গেছে। ফলে স্থানীয় মীমাংসার চেষ্টা থেকে গ্রাম আদালত এবং সেখান থেকে দেওয়ানি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিরোধের বিষয়টি। এরপরও বিরোধের সমাধান না হওয়ায় মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম লাবু। অভিযোগে তিনি জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন। এদিকে অভিযুক্ত বিবাদী পক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
তাদের কাছে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কোনো দলিল বা নথি রয়েছে কি না জানতে চাইলে তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। স্থানীয়দের মতে, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা ও বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মাপজোক, সালিশ, গ্রাম আদালত এবং দেওয়ানি আদালতের প্রক্রিয়া চলার পরও যদি বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে সঠিক নথিপত্র যাচাই করে জমির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ এবং আইনানুগভাবে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি কোনো পক্ষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।
https://slotbet.online/