• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
গাজীপুরে ৫৮৫ শ্রমিককে লে-অফ, মহাসড়ক অবরোধের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক নাটোরে ভুট্টা ও সাবুদানায় তৈরি ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা, দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের শ্রীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, ৯৯৯-এ ফোন করে স্বামীর আত্মসমর্পণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: সৌদিতে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি দূতাবাসের জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব-সম্পাদক রাকিবুল অক্টোবর-নভেম্বরে জ্বর হলে অবহেলা নয়, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়াসহ যে ৫ রোগের ঝুঁকি এআইয়ের প্রভাবে নতুন স্নাতকদের চাকরির সুযোগ কমছে, দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্টের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১২ কেজির বেশি স্বর্ণ ও সাড়ে ১২ কেজি রুপা গাজীপুর টঙ্গীতে তুরাগের খালে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ভাই-বোনের তেঁতুলিয়ায় ১০ কেজির অজগর উদ্ধার, ১৩ দিনের ব্যবধানে মিলল দুটি

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, বিকল্প পরিচর্যা ও নিরাপদ আবাসনের সুপারিশ

প্রবাস পোস্ট ডেস্ক / ১ টাইম:
আপডেট: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ জন শিশু অবস্থান করছে। মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা এসব শিশুকে শিশু আইন অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের স্বাভাবিক বিকাশ, নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বিকল্প পারিবারিক যত্ন, নিরাপদ আবাসন এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে অধিদপ্তর বলেছে, কারাগারের পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অনুকূল নয়। তাই শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে নিকটাত্মীয়ের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্নে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে সরকারি শিশু পরিবার বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনে রেখে তাদের লালন-পালন ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে কারাগারে থাকা শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষায় খেলনা, পোশাক এবং পুষ্টিকর শিশু খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আওতায় কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য পৃথক কোনো কার্যক্রম নেই। প্রবেশন শাখার মাধ্যমে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে।

আইনে সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে স্বীকৃতি

সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখার সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পাঠানো প্রতিবেদনে কারাগারে থাকা শিশুদের সুরক্ষার আইনি ভিত্তি, বিদ্যমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু আইন, ২০১৩-এর মূল দর্শন হলো শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করা। আইনের ৮৯(১)(৬) ধারা অনুযায়ী, কারাভোগরত মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল অথবা কারাভোগরত মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশু সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে গণ্য। ফলে এসব শিশুর জন্য বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আইনগত ভিত্তি রয়েছে।

কোনো শিশুর ক্ষেত্রে অবহেলা বা অরক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়াও সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্ব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুদানে চলছে শিশুদের সহায়তা কার্যক্রম

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ কার্যক্রম দেশের ৬৪টি জেলা এবং আটটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কারাগারে থাকা শিশুদের সহায়তা করছে।

মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ জন শিশু রয়েছে। প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সমিতিটির মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষায় নিয়মিত খেলনা, পোশাক এবং পুষ্টিকর শিশু খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অনুদান এবং সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য শিশু সুরক্ষা ইউনিটের অধীনে আলাদা কোনো কর্মসূচি নেই। প্রবেশন শাখার মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিকটাত্মীয়ের কাছে পুনর্বাসনের সুপারিশ

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী, কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে তাকে নিকটাত্মীয়ের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্নে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও স্বাভাবিক বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

কোনো শিশুর নিকটাত্মীয়ের কাছে থাকার সুযোগ না থাকলে কিংবা সেখানে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ধরনের শিশুকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি শিশু পরিবার অথবা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে রাখা যেতে পারে। সেখানে তার যথাযথ লালন-পালন, শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদনে অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারাগারে থাকা শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণে তারা বদ্ধপরিকর।

হাইকোর্টের নির্দেশে প্রতিবেদন দাখিল

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালত দুই মাসের মধ্যে তালিকা দাখিল করতে বলেছিলেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা।

আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশুদের সংখ্যা, তাদের সুরক্ষায় চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দিপা।

Share this news as a Photo Card


আরো নিউজ

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, বিকল্প পরিচর্যা ও নিরাপদ আবাসনের সুপারিশ

12 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com

কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, বিকল্প পরিচর্যা ও নিরাপদ আবাসনের সুপারিশ

12 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.probashpost.com