সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা পাওয়া বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে পানিশূন্যতার প্রভাব শুধু এতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কারণে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি মাথা ঘোরা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। এসব লক্ষণ সম্পর্কে জানা থাকলে সময়মতো পানির ঘাটতি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।
তৃষ্ণা পাওয়া শরীরে পানির ঘাটতির প্রথম লক্ষণগুলোর একটি। শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য বদলালে মস্তিষ্ক তৃষ্ণার অনুভূতি তৈরি করে এবং হরমোনের মাধ্যমে কিডনিকে সংকেত দেয়। তখন কিডনি প্রস্রাবের সঙ্গে পানির অপচয় কমিয়ে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
তৃষ্ণা পাওয়ার পাশাপাশি মুখ শুকিয়ে যাওয়াও শরীরে পানির ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ। লালাগ্রন্থি প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে দেড় লিটার লালা তৈরি করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে লালায় পানির পরিমাণ কমে যায়। ফলে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার হলে শরীরে পানির ঘাটতি থাকতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে সাধারণত প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকে। এর কারণ, শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন ও অ্যালডোস্টেরনের মতো হরমোন কিডনিকে প্রস্রাবের সঙ্গে কম পানি বের করার সংকেত দেয়। ফলে প্রস্রাবে বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং রং গাঢ় দেখায়।
শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে কিডনি পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে। ফলে প্রস্রাব আরও ঘন হয়ে যায়। এ অবস্থায় মূত্রথলি পূর্ণ হতে বেশি সময় লাগে এবং প্রস্রাবের বেগও তুলনামূলক কম অনুভূত হতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হলে বুঝতে হবে, আপনার আরও পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ক্লান্তি, মনোযোগ ও সতর্কতা কমে যাওয়া, এমনকি বিভ্রান্তির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শরীরে রক্তের পরিমাণ ও রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং পানি ও লবণের ভারসাম্যহীনতার প্রভাব মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পড়ার কারণে এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে মলের পানির পরিমাণ কমে যায়। ফলে মল শক্ত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শক্ত মল মলদ্বারে আটকে যেতে পারে।
বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে গিয়ে রক্তচাপ কমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন বলে। গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। তবে মাথা ঘোরার সঙ্গে বুকে ব্যথা, কথা বলা বা হাঁটতে অসুবিধা, শরীরের কোনো অংশ অবশ বা দুর্বল হওয়া কিংবা দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
পানিশূন্যতায় মাথাব্যথা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেন বা টেনশনজনিত মাথাব্যথা রয়েছে, তাদের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। এই ব্যথা সাধারণত মৃদু ও ভোঁতা হয়, যা নড়াচড়া করলে বাড়তে পারে। কারো কারো কাঁধ, ঘাড় ও মাথার পেছনের নিচের অংশেও ব্যথা হয়।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় সারা শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হৃদযন্ত্রকে দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হয়। ফলে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার সময় ব্যবহৃত ফিটনেস মনিটরে হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যেতে দেখা যেতে পারে। কারো কারো বুক ধড়ফড় করার অনুভূতিও হতে পারে।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ