নতুন স্মার্টফোন কেনার আনন্দে অনেকেই ফোনটি হাতে পেয়েই বাক্স, কাগজপত্র ও প্যাকেজিং সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু কিছুদিন পর ফোনে সমস্যা দেখা দিলে, সেটি বিক্রি করতে চাইলে কিংবা হারিয়ে গেলে ওই বাক্সের তথ্যই কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে ফোনের আইএমইআই নম্বর, মডেল ও সিরিয়াল নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাক্সে লেখা থাকে। তাই স্মার্টফোনের বাক্সকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস ভেবে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া ঠিক হবে কি না, তা একবার ভেবে দেখা জরুরি। তবে বাক্স থাকলেই যে সব ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে, এমনটাও নয়।
স্মার্টফোনের বাক্সে সাধারণত ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর, মডেল নম্বর, সিরিয়াল নম্বর এবং অন্যান্য পরিচিতিমূলক তথ্যের স্টিকার থাকে। ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে এসব তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফোনের পরিচয় নিশ্চিত করার সময় আইএমইআই নম্বর কাজে লাগে।
তবে এই তথ্য পেতে ফোনের বাক্সই একমাত্র উপায় নয়। ফোনের সেটিংস, কেনার রসিদ কিংবা অন্য সংরক্ষিত নথি থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই বাক্স ফেলে দিলেও তার ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ছবি তুলে নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
নতুন ফোন কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাতে ত্রুটি দেখা দিলে বিক্রেতা বা প্রস্তুতকারকের নীতিমালা অনুযায়ী মেরামত, বদল কিংবা ফেরতের সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেনার রসিদ, ওয়ারেন্টি-সংক্রান্ত নথি ও ফোনের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু বিক্রেতা বা অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্ম ফোন ফেরত কিংবা বদলের সময় মূল প্যাকেজিংও চাইতে পারে। তাই ফোন কেনার পর প্রথম কয়েক দিন বাক্সটি রেখে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ওয়ারেন্টি দাবি করার জন্য সব প্রতিষ্ঠানই যে বাক্স চাইবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টির শর্ত এবং বিক্রেতার ফেরত নীতি আগে দেখে নেওয়া উচিত।
কয়েক বছর ব্যবহার করার পর ফোনটি বিক্রি করে নতুন মডেল কেনার পরিকল্পনা থাকলে মূল বক্সটি সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। ফোনের সঙ্গে বাক্স, কেনার রসিদ এবং মূল আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম থাকলে ক্রেতার কাছে সেটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা সহজ হতে পারে।
এতে ক্রেতার আস্থা তৈরিতেও সুবিধা হয়। তবে শুধু বাক্স থাকলেই ফোনের দাম বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের অবস্থা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, মডেল, বাজারদর এবং সঙ্গে থাকা আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের ওপরই মূলত বিক্রয়মূল্য নির্ভর করে। বাক্সের তথ্যের সঙ্গে ফোনের আইএমইআই ও মডেল মিলিয়ে দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সাময়িকভাবে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখলে সেটি গুছিয়ে রাখার জন্য মূল বাক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোনের আকৃতি অনুযায়ী তৈরি প্যাকেজিং থাকায় সেটি সংরক্ষণে সুবিধা হয়। আবার ফোন কাউকে পাঠানোর প্রয়োজন হলেও বাক্সটি কাজে লাগতে পারে। তবে কুরিয়ারে পাঠানোর সময় শুধু মূল বাক্সের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। ফোনটি যথাযথভাবে প্যাক করে অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পরিবহনের সময় ধাক্কা বা চাপ লেগে ক্ষতি না হয়।
সবার বাড়িতে পুরোনো ফোনের বাক্স রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। তাই বক্সটি সংরক্ষণ করতে না চাইলে কয়েকটি কাজ করে নিতে পারেন।
প্রথমত, বাক্সের গায়ে থাকা আইএমইআই নম্বর, সিরিয়াল নম্বর ও মডেলের তথ্যের ছবি তুলে নিরাপদ জায়গায় রাখুন। দ্বিতীয়ত, ফোনের কেনার রসিদ ও ওয়ারেন্টির নথি সংরক্ষণ করুন। তৃতীয়ত, ফোন বদলানো বা ফেরত দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। ভবিষ্যতে ফোন বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকলে বাক্সটি রেখে দেওয়াই সুবিধাজনক হতে পারে।
বাক্সটি আর প্রয়োজন হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলে সরাসরি যত্রতত্র ফেলে না দিয়ে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী উপাদান আলাদা করুন। কার্ডবোর্ডের অংশ কাগজ পুনর্ব্যবহারের জন্য দেওয়া যেতে পারে। প্লাস্টিকের অংশ আলাদা করে স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করুন।
বাক্সে ফোনের আইএমইআই, সিরিয়াল নম্বর বা অন্য পরিচিতিমূলক তথ্য থাকলে সেই স্টিকারটি খুলে ফেলুন বা তথ্যগুলো অপাঠযোগ্য করে দিন। এতে অন্য কেউ বাক্সের তথ্য ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করার সুযোগ কমবে। বিশেষ করে পুরোনো ফোনের বাক্স অন্য কোনো ফোনের সঙ্গে ব্যবহার করে বিক্রির চেষ্টা হতে পারে, তাই বাক্সের তথ্য ও ফোনের পরিচয়ের মিল থাকা জরুরি।
তবে স্মার্টফোনের বাক্স সারাজীবন আগলে রাখতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তবে ফোন কেনার পর ফেরত বা বদলের সময়সীমা পার হওয়া পর্যন্ত বাক্সটি রেখে দেওয়া এবং ফোন বিক্রির পরিকল্পনা থাকলে সেটি সংরক্ষণ করা কাজে আসতে পারে। আর বাক্স ফেলে দিলেও ফোনের আইএমইআই নম্বর, কেনার রসিদ ও ওয়ারেন্টির তথ্য নিরাপদে রাখা উচিত।