পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে তা বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উপস্থাপন করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না করে লভ্যাংশের কোনো প্রস্তাব সভায় উত্থাপন করা যাবে না।
এছাড়া বিদ্যমান নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন না করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বার্ষিক বা চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলে পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ বিতরণের উদ্দেশ্যে এজিএমের অন্তত এক দিন আগে পৃথক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে হয়। একই সঙ্গে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ব্যাংকের ওই প্রত্যয়নপত্র কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিবের সত্যায়নের পর এজিএমে উপস্থাপন করতে হয়। পাশাপাশি প্রত্যয়নপত্রটি সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে জমা দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
তবে সম্প্রতি কয়েকটি ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন না করার বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
লভ্যাংশ বিতরণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা এবং ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও এজিএমে উপস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে এজিএমে লভ্যাংশসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করা যাবে না।
এদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮ এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলোর আওতায় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হালনাগাদ ক্লিন ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন সম্মতি দেবে।
এছাড়া কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালককে করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্তে আগে অব্যাহতি বা শিথিলতা দেওয়া হয়ে থাকলে, তা নতুন নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ওই পরিচালককে অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নিয়োগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে পুনর্নিয়োগের জন্য একই বিষয়ে নতুন করে অব্যাহতি নিতে হবে না।
বিএসইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।