যুদ্ধের ময়দানে যখন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়া ও ইউক্রেন, তখন নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সাইবার হামলা। এবার যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের নাগরিকদের কাছে পৌঁছে গেল পারমাণবিক হামলার ভয়াবহ বার্তা। তবে সেই বার্তা ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপ হ্যাক করে এসব বার্তা ছড়িয়ে দেয় হ্যাকাররা।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানায়, গত রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টার কিছু আগে তাদের সতর্কতা অ্যাপে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়। এতে দাবি করা হয়, ইউক্রেনের ড্রোনে পারমাণবিক ওয়ারহেড বসিয়ে দেশটির সব অঞ্চলে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে, নাগরিকদের তিন সপ্তাহের খাবার মজুত করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের সতর্কতা অ্যাপটি এখনো বন্ধ রয়েছে। তবে এতে নাগরিকদের সতর্ক করার সামগ্রিক ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হয়নি।দেশটির জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় বলেছে, সাইরেন, লাউডস্পিকার, খুদে বার্তা এবং টেলিভিশন ও রেডিওর মাধ্যমে আগের মতোই নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। অ্যাপটি কেবল অতিরিক্ত তথ্য পাওয়ার একটি মাধ্যম। তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা জানায়নি মস্কো।
অন্যদিকে, এর কয়েকদিন আগে একই ধরনের হ্যাকিংয়ের শিকার হয় ইউক্রেনের বিমান হামলার সতর্কতা অ্যাপ। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। কেন্দ্রটি জানিয়েছে, ভুয়া সতর্কবার্তাগুলোর মধ্যে একটি বার্তা ছিল রুশ ভাষায়। এ বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে একটি ছবিও প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। ছবিতে দেশটির বিমান হামলার সতর্কতা অ্যাপে দেখানো কয়েকটি ভুয়া বার্তা দেখা যায়।
এ ধরনের ভুয়া বার্তা নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে, সতর্কতা অ্যাপে অস্বাভাবিক কোনো বার্তা দেখলে তাতে গুরুত্ব না দিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য সরকারি সূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অ্যাপটি শত্রুভাবাপন্ন হস্তক্ষেপের শিকার হয়ে থাকতে পারে, তবে কোনো তেজস্ক্রিয়তার হুমকি নেই। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাও অন্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতিতে শহরটি থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি।
তবে, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে ওলেশকিতে আবারও লড়াই শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির সুযোগে সেনা ও সামরিক শক্তি বাড়ানোর অভিযোগ করেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা