প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে কম্পিউটারেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে এসেছে এআই পিসি। দেখতে সাধারণ কম্পিউটারের মতো হলেও এআই পিসিতে এমন বিশেষ প্রসেসিং প্রযুক্তি থাকে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারে।
সাধারণ পিসিতে কম্পিউটিংয়ের প্রধান কাজ করে কেন্দ্রীয় প্রসেসর বা সিপিইউ। পাশাপাশি গ্রাফিকস ও ভারী কাজের জন্য গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে এআই পিসিতে এসবের পাশাপাশি থাকে নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট বা এনপিইউ।
এনপিইউ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের কাজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রসেসর। ছবি শনাক্তকরণ, কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ, ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা করা, শব্দ কমানো কিংবা বিভিন্ন এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের কাজ স্থানীয়ভাবে পরিচালনায় এটি ভূমিকা রাখে।
এআই পিসির অন্যতম সুবিধা হলো নির্দিষ্ট কিছু এআই কাজ সরাসরি কম্পিউটারে সম্পন্ন করা যায়। ফলে সব কাজের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক ক্লাউড সার্ভারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এতে কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা বাড়ার পাশাপাশি কাজের গতি উন্নত হতে পারে। এছাড়া এনপিইউ নির্দিষ্ট এআই কাজ কম শক্তি খরচে পরিচালনা করতে পারে। ফলে ব্যাটারি চালিত ল্যাপটপে বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এআই পিসি মানেই সব কাজে সাধারণ পিসির চেয়ে বেশি শক্তিশালী-এমন নয়। গেমিং, ভিডিও সম্পাদনা বা থ্রিডি গ্রাফিকসের মতো কাজে প্রসেসর ও জিপিইউর ক্ষমতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে শুধু এআই পিসি কি না, তা নয়; প্রসেসর, র্যাম, স্টোরেজ ও গ্রাফিকস সক্ষমতাও বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পিউটারে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, এনপিইউয়ের গুরুত্বও তত বাড়বে। ভবিষ্যতে ছবি, ভিডিও, কণ্ঠস্বর, লেখালেখি এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে আরও বেশি এআই সুবিধা কম্পিউটারের মধ্যেই যুক্ত হতে পারে। বাজারে গিগাবাইটের বেশ কয়েকটি এআই পিসি ও ল্যাপটপ রয়েছে। এসব ডিভাইসে কম্পিউটারের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ করার সুবিধা থাকায় ক্লাউডনির্ভরতা কমবে বলে জানিয়েছেন গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান।
তিনি বলেন, এআই পিসি ব্যবহারকারীর জীবনকে আরও সহজ করে দেয়। এর মাধ্যমে অনেক জটিল কাজ করা সম্ভব। ডিভাইসের মধ্যেই এআইভিত্তিক কাজ করার সুবিধা থাকায় বিভিন্ন কাজে ক্লাউডনির্ভরতা কমবে। ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআইভিত্তিক কাজ, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ আরও সহজ হবে।
গিগাবাইটের বাজারে থাকা এআই পিসির মধ্যে রয়েছে এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ কম্পিউটার ও এআই টপ অ্যাটম। পাশাপাশি এআই সুবিধাসম্পন্ন গিগাবাইট ঈগল ৯এলজি ল্যাপটপও বাজারে রয়েছে। খাজা মো. আনাস খান বলেন, ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ডিভাইসের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও জটিল কাজের ক্ষেত্রে এআই পিসি ব্যবহারকারীদের সময় ও কাজের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
সহজ কথায়, সাধারণ পিসি যেখানে মূলত প্রচলিত কম্পিউটিংয়ের জন্য তৈরি, এআই পিসি সেখানে সাধারণ কাজের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য তৈরি।