জলঢাকায় শ্মশান ঘাট রক্ষা কাজের প্রোটেকশন ওয়ার্কে ব্যাপক অনিয়ম, মামলা করতে বাদী খুঁজছে কর্তৃপক্ষ
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের ৭ এবং ৮ নং ওয়ার্ডের শ্মশান ঘাট রক্ষা কাজের (প্রোটেকশন ওয়ার্ক) বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দায়সারা গোছের কাজ করা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতা ও রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্মশান ঘাটটি নদী ভাঙন বা সুরক্ষার নামে বরাদ্দকৃত প্রোটেকশন ওয়ার্কের কাজটি শুরু থেকেই অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন বা প্রাক্কলন (স্টিমেট) না মেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ঠিকাদারের বক্তব্য:
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ তদারককারী ঠিকাদারের ম্যানেজার ফিরোজুল ইসলামের কাছে কাজের অনিয়ম ও অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমরা এভাবেই ইতিমধ্যে ১২/১৩ টি কাজ করেছি কেউ বাধ্যা দেয়নি আর আপনার কি করবেন আমার জানা আছে। তবে এ সময় সংবাদকর্মীরা কাজের বৈধ তথ্য বা কোনো কাগজ দেখতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের তথ্য বা কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।শুধু বলেন ২৯ লাখ টাকার বরাদ্দ,
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এই অনিয়মের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর (এক্সেন) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “আমি আপনাদের মাধ্যমে এই বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা মামলা করার জন্য কোনো বাদী খুঁজে পাই না, আপনি আমার অফিসে আসেন, আপনি বাদী হন আমরা মামলা করব।” একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি